সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নজরদারির অভাবে আয়ারল্যান্ডের একটি মসজিদ কেন্দ্রিক উস্কানি ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে; ৯০ শতাংশের বেশি ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণের উৎস আয়ারল্যান্ডের বাইরে।

সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমে বিশ্বব্যাপী ছড়াচ্ছে ইসলামফোবিয়া: আয়ারল্যান্ডের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন



সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমে বিশ্বব্যাপী ছড়াচ্ছে ইসলামফোবিয়া: আয়ারল্যান্ডের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন

আয়ারল্যান্ডভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা 'হোপ অ্যান্ড কারেজ কালেকটিভ' (HCC) প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমকে কাজে লাগিয়ে ইসলামবিদ্বেষী ও উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো বিশ্বজুড়ে ঘৃণা ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আয়ারল্যান্ডে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ইসলামবিদ্বেষী ঘটনার ওপর ভিত্তি করে অনলাইনে ছড়ানো বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে দেশের বাইরের আন্তর্জাতিক উৎস থেকে। স্থানীয় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কীভাবে মুহূর্তেই মুসলিমদের ওপর সহিংসতার বৈশ্বিক উন্মাদনা তৈরি করা হয়, এই প্রতিবেদন তারই প্রত্যক্ষ প্রমাণ।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও নজরদারির অভাবে বিশ্বব্যাপী দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ইসলামফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষ। সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান Hope and Courage Collective (HCC) প্রকাশিত "The Islamophobia Playbook: A Project of Hate" শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম ব্যবহার করে কীভাবে স্থানীয় একটি ঘটনাকে বিশ্বব্যাপী মুসলিমবিরোধী সহিংসতায় রূপ দেওয়া হচ্ছে।

ডাবলিন মসজিদে হামলা ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিতর্কিত ভূমিকা

প্রতিবেদনে ডাবলিনের একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের পরবর্তী অনলাইন তৎপরতাকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা জানান, ওই বর্বরোচিত হামলার পর ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করা একটি ভিডিও প্রায় ১৯ লাখ (১.৯ মিলিয়ন) বার দেখা হয়েছে। ভিডিওটিতে ১০,৬০০টিরও বেশি মন্তব্য ও মিথস্ক্রিয়া (ইন্টারেকশন) বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতি ৫টি মিথস্ক্রিয়ার অন্তত ১টিতে সরাসরি মুসলিমবিদ্বেষ, হামলায় উস্কানি কিংবা সহিংসতাকে সমর্থন করা হয়েছে।

হতাশাজনক বিষয় হলো, শত শত মন্তব্যে মসজিদে নতুন করে হামলার আহ্বান জানানো হয় এবং ৩০০টিরও বেশি মন্তব্যে আয়ারল্যান্ডের অন্যান্য মসজিদ জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রকাশ্য উস্কানি দেওয়া হয়। এসব চরমপন্থী উস্কানি কেবল অনলাইনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বাস্তবেও মুসলিমদের ওপর সরাসরি শারীরিক হামলা ও জীবননাশের চরম ঝুঁকি তৈরি করেছে।

'এক্স' (সাবেক টুইটার) ও ঘৃণা ছড়ানোর বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক

এক্স প্ল্যাটফর্মের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি পোস্ট করা হয় এবং প্রায় ৭০ হাজার ভিন্ন অ্যাকাউন্ট এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে এই উস্কানিমূলক বার্তাগুলো আনুমানিক ২৪ কোটি ৩০ লাখ (২৪৩ মিলিয়ন) ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে যায়।

গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্যটি হলো, এই বিপুল নেটওয়ার্ক ও মিথস্ক্রিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশই আয়ারল্যান্ডের বাইরে থেকে চালিত হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে মুসলিমদের ওপর হওয়া হামলা কিংবা বিদ্বেষমূলক প্রচারণা কেবল স্থানীয় উগ্রপন্থীদের কাজ নয়; বরং আন্তর্জাতিক উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠী ও অনলাইন স্ট্র্যাটেজিস্টরা কৃত্রিম অ্যালগরিদম ব্যবহার করে চরমপন্থাকে গ্লোবালাইজড বা বিশ্বায়িত করছে।

অ্যালগরিদম ও প্ল্যাটফর্মগুলোর চরম ব্যর্থতা

HCC-এর প্রধান গবেষক মার্ক ম্যালোন (Mark Malone) বলেন,

"এই প্রতিবেদন স্পষ্ট প্রমাণ করে কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অনলাইন ঘৃণাকে বৈশ্বিক রূপ দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই বিদ্বেষের বিস্তার অনলাইন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের জন্যই অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত। আয়ারল্যান্ড এখন আন্তর্জাতিক উগ্র ডানপন্থীদের কনটেন্ট তৈরির উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়েছে।"

প্রতিবেদনে মেটা (Meta) সহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বিমুখী নীতি ও তাদের নিজস্ব কমিউনিটি গাইডলাইন বাস্তবায়নে চরম ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করা হয়। গবেষক ম্যালোন উল্লেখ করেন, মেটা প্রায়শই গৎবাঁধা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দাবি করে যে তারা ঘৃণা ছড়ানো বরদাশত করে না। কিন্তু বাস্তবে তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ্যে মসজিদে হামলা ও মুসলিম সমাজকে লক্ষ্য করে সহিংসতার উস্কানিমূলক পোস্ট বছরের পর বছর ধরে টিকে থাকে এবং বিপুল পরিমাণ এনগেজমেন্ট পায়।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এই দায়িত্বজ্ঞানহীন অ্যালগরিদম নীতি সংশোধন এবং ঘৃণা ছড়ানো অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

বিষয় : মানবাধিকার ইসলামফোবিয়া ইসলামবিদ্বেষ

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬


সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমে বিশ্বব্যাপী ছড়াচ্ছে ইসলামফোবিয়া: আয়ারল্যান্ডের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

আয়ারল্যান্ডভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা 'হোপ অ্যান্ড কারেজ কালেকটিভ' (HCC) প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমকে কাজে লাগিয়ে ইসলামবিদ্বেষী ও উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো বিশ্বজুড়ে ঘৃণা ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আয়ারল্যান্ডে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ইসলামবিদ্বেষী ঘটনার ওপর ভিত্তি করে অনলাইনে ছড়ানো বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে দেশের বাইরের আন্তর্জাতিক উৎস থেকে। স্থানীয় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কীভাবে মুহূর্তেই মুসলিমদের ওপর সহিংসতার বৈশ্বিক উন্মাদনা তৈরি করা হয়, এই প্রতিবেদন তারই প্রত্যক্ষ প্রমাণ।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও নজরদারির অভাবে বিশ্বব্যাপী দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ইসলামফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষ। সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান Hope and Courage Collective (HCC) প্রকাশিত "The Islamophobia Playbook: A Project of Hate" শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম ব্যবহার করে কীভাবে স্থানীয় একটি ঘটনাকে বিশ্বব্যাপী মুসলিমবিরোধী সহিংসতায় রূপ দেওয়া হচ্ছে।

ডাবলিন মসজিদে হামলা ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিতর্কিত ভূমিকা

প্রতিবেদনে ডাবলিনের একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের পরবর্তী অনলাইন তৎপরতাকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা জানান, ওই বর্বরোচিত হামলার পর ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করা একটি ভিডিও প্রায় ১৯ লাখ (১.৯ মিলিয়ন) বার দেখা হয়েছে। ভিডিওটিতে ১০,৬০০টিরও বেশি মন্তব্য ও মিথস্ক্রিয়া (ইন্টারেকশন) বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতি ৫টি মিথস্ক্রিয়ার অন্তত ১টিতে সরাসরি মুসলিমবিদ্বেষ, হামলায় উস্কানি কিংবা সহিংসতাকে সমর্থন করা হয়েছে।

হতাশাজনক বিষয় হলো, শত শত মন্তব্যে মসজিদে নতুন করে হামলার আহ্বান জানানো হয় এবং ৩০০টিরও বেশি মন্তব্যে আয়ারল্যান্ডের অন্যান্য মসজিদ জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রকাশ্য উস্কানি দেওয়া হয়। এসব চরমপন্থী উস্কানি কেবল অনলাইনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বাস্তবেও মুসলিমদের ওপর সরাসরি শারীরিক হামলা ও জীবননাশের চরম ঝুঁকি তৈরি করেছে।

'এক্স' (সাবেক টুইটার) ও ঘৃণা ছড়ানোর বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক

এক্স প্ল্যাটফর্মের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি পোস্ট করা হয় এবং প্রায় ৭০ হাজার ভিন্ন অ্যাকাউন্ট এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে এই উস্কানিমূলক বার্তাগুলো আনুমানিক ২৪ কোটি ৩০ লাখ (২৪৩ মিলিয়ন) ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে যায়।

গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্যটি হলো, এই বিপুল নেটওয়ার্ক ও মিথস্ক্রিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশই আয়ারল্যান্ডের বাইরে থেকে চালিত হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে মুসলিমদের ওপর হওয়া হামলা কিংবা বিদ্বেষমূলক প্রচারণা কেবল স্থানীয় উগ্রপন্থীদের কাজ নয়; বরং আন্তর্জাতিক উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠী ও অনলাইন স্ট্র্যাটেজিস্টরা কৃত্রিম অ্যালগরিদম ব্যবহার করে চরমপন্থাকে গ্লোবালাইজড বা বিশ্বায়িত করছে।

অ্যালগরিদম ও প্ল্যাটফর্মগুলোর চরম ব্যর্থতা

HCC-এর প্রধান গবেষক মার্ক ম্যালোন (Mark Malone) বলেন,

"এই প্রতিবেদন স্পষ্ট প্রমাণ করে কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অনলাইন ঘৃণাকে বৈশ্বিক রূপ দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই বিদ্বেষের বিস্তার অনলাইন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের জন্যই অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত। আয়ারল্যান্ড এখন আন্তর্জাতিক উগ্র ডানপন্থীদের কনটেন্ট তৈরির উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়েছে।"

প্রতিবেদনে মেটা (Meta) সহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বিমুখী নীতি ও তাদের নিজস্ব কমিউনিটি গাইডলাইন বাস্তবায়নে চরম ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করা হয়। গবেষক ম্যালোন উল্লেখ করেন, মেটা প্রায়শই গৎবাঁধা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দাবি করে যে তারা ঘৃণা ছড়ানো বরদাশত করে না। কিন্তু বাস্তবে তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ্যে মসজিদে হামলা ও মুসলিম সমাজকে লক্ষ্য করে সহিংসতার উস্কানিমূলক পোস্ট বছরের পর বছর ধরে টিকে থাকে এবং বিপুল পরিমাণ এনগেজমেন্ট পায়।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এই দায়িত্বজ্ঞানহীন অ্যালগরিদম নীতি সংশোধন এবং ঘৃণা ছড়ানো অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ