শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

পাকিস্তানে স্বাধীনতা উদযাপনের নামে বিপজ্জনক ফাঁকা গুলিবর্ষণে রক্তাক্ত করাচির বিভিন্ন সড়ক; অসাবধানতাবশত পিস্তলের গুলিতে নারীর প্রাণহানি ও শিশুসহ বহু হতাহতের পর ৩০ জন গ্রেপ্তার।

করাচিতে স্বাধীনতা দিবসের রাতে শূন্যে গুলি: নারীসহ নিহত ১, শিশু ও নারীসহ আহত শতাধিক



করাচিতে স্বাধীনতা দিবসের রাতে শূন্যে গুলি: নারীসহ নিহত ১, শিশু ও নারীসহ আহত শতাধিক

পাকিস্তানের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে বন্দরনগরী করাচিতে আকাশে অনিয়ন্ত্রিত ও বিপজ্জনক ফাঁকা গুলিবর্ষণে (এরিয়াল ফাইরিং) অন্তত ৯৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া পিস্তল নাড়াচাড়ার সময় দুর্ঘটনাবশত গুলি বের হয়ে এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানিক উদ্ধারকারী সংস্থা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে ১৭টি শিশু ও ১০ জন নারী রয়েছেন।

পাকিস্তানের করাচি শহরে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের নামে চরম বেপরোয়া ফাঁকা গুলিবর্ষণে মারাত্মক এক মানবিক বিপর্যয় ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আনন্দ-উৎসবের অশুভ অনুষঙ্গ হিসেবে আকাশপানে ছোড়া গুলিতে নারী-শিশুসহ অন্তত ৯৪ জন নাগরিক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। একই সাথে একটি পৃথক অসাবধানতাজনিত দুর্ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ১৪ আগস্ট শুক্রবার করাচির সরকারি হাসপাতাল ও মানবিক উদ্ধারকারী সংস্থা এডহি ফাউন্ডেশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এডহি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের উল্লাসে শহরের পূর্ব, পশ্চিম ও মধ্য জেলাসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় একযোগে শত শত রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। এই গুলিবর্ষণে পথচারী ও নিজ বাড়ির ছাদে অবস্থান করা অন্তত ৫৯ জন পুরুষ, ১৭টি শিশু এবং ১০ জন নারী গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে শহরের প্রধান তিন চিকিৎসা কেন্দ্র—জিন্নাহ পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিকেল সেন্টার (জেপিএমসি), সিভিল হাসপাতাল ও আব্বাসি শহীদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জিন্নাহ হাসপাতালে ৩৫ জন, সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ২৬ জন এবং আব্বাসি শহীদ হাসপাতালে ২৪ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এদিকে করাচির পাপোশ নগর এলাকার সারাফা বাজারের একটি হোটেলে স্বাধীনতা দিবসের আনন্দের মাঝেই পিস্তল দুর্ঘটনায় এক নারী নিহত হন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হোটেলের একটি টেবিলে গুলিভর্তি অবস্থায় লোড করা ৯ মিলিমিটারের একটি পিস্তল রাখা ছিল। সেটি নাড়াচাড়ার সময় অসাবধানতাবশত ট্রিগার চেপে গেলে এক নারী সরাসরি গুলিবিদ্ধ হন। পরে আব্বাসি শহীদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত নারী ওই পিস্তলের মালিক ইমরান নামক এক ব্যক্তির আপন চাচাতো বোন। পুলিশ অস্ত্রটি বাজেয়াপ্ত করে ইমরানকে গ্রেপ্তার করেছে।

নগরজুড়ে এই বিশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপরাধে করাচি পুলিশ কঠোর অভিযান পরিচালনা করে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, শূন্যে ছোড়া গুলি মাধ্যাকর্ষণের টানে যখন তীব্র বেগে ভূমিতে ফিরে আসে, তখন তা মারণাস্ত্রের রূপ নিয়ে নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা উদযাপনের নামে করাচিতে এ ধরনের প্রাণঘাতী গুলিবর্ষণের ঘটনা নতুন নয়। গত বছর ২০২৫ সালের একই উৎসবে ৩ জন নিহত ও ৭৫ জন আহত হয়েছিলেন এবং ২০২৪ সালে আহত হয়েছিলেন ৯৫ জন নাগরিক। প্রতিবছর কর্তৃপক্ষের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও আইনগত হুঁশিয়ারি থাকা সত্ত্বেও নাগরিক সচেতনতার অভাব ও অস্ত্রের অবাধ ব্যবহারের কারণে এমন মর্মান্তিক পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

বিষয় : পাকিস্তান স্বাধীনতা করাচি

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬


করাচিতে স্বাধীনতা দিবসের রাতে শূন্যে গুলি: নারীসহ নিহত ১, শিশু ও নারীসহ আহত শতাধিক

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পাকিস্তানের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে বন্দরনগরী করাচিতে আকাশে অনিয়ন্ত্রিত ও বিপজ্জনক ফাঁকা গুলিবর্ষণে (এরিয়াল ফাইরিং) অন্তত ৯৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া পিস্তল নাড়াচাড়ার সময় দুর্ঘটনাবশত গুলি বের হয়ে এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানিক উদ্ধারকারী সংস্থা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে ১৭টি শিশু ও ১০ জন নারী রয়েছেন।

পাকিস্তানের করাচি শহরে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের নামে চরম বেপরোয়া ফাঁকা গুলিবর্ষণে মারাত্মক এক মানবিক বিপর্যয় ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আনন্দ-উৎসবের অশুভ অনুষঙ্গ হিসেবে আকাশপানে ছোড়া গুলিতে নারী-শিশুসহ অন্তত ৯৪ জন নাগরিক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। একই সাথে একটি পৃথক অসাবধানতাজনিত দুর্ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ১৪ আগস্ট শুক্রবার করাচির সরকারি হাসপাতাল ও মানবিক উদ্ধারকারী সংস্থা এডহি ফাউন্ডেশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এডহি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের উল্লাসে শহরের পূর্ব, পশ্চিম ও মধ্য জেলাসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় একযোগে শত শত রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। এই গুলিবর্ষণে পথচারী ও নিজ বাড়ির ছাদে অবস্থান করা অন্তত ৫৯ জন পুরুষ, ১৭টি শিশু এবং ১০ জন নারী গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে শহরের প্রধান তিন চিকিৎসা কেন্দ্র—জিন্নাহ পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিকেল সেন্টার (জেপিএমসি), সিভিল হাসপাতাল ও আব্বাসি শহীদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জিন্নাহ হাসপাতালে ৩৫ জন, সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ২৬ জন এবং আব্বাসি শহীদ হাসপাতালে ২৪ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এদিকে করাচির পাপোশ নগর এলাকার সারাফা বাজারের একটি হোটেলে স্বাধীনতা দিবসের আনন্দের মাঝেই পিস্তল দুর্ঘটনায় এক নারী নিহত হন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হোটেলের একটি টেবিলে গুলিভর্তি অবস্থায় লোড করা ৯ মিলিমিটারের একটি পিস্তল রাখা ছিল। সেটি নাড়াচাড়ার সময় অসাবধানতাবশত ট্রিগার চেপে গেলে এক নারী সরাসরি গুলিবিদ্ধ হন। পরে আব্বাসি শহীদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত নারী ওই পিস্তলের মালিক ইমরান নামক এক ব্যক্তির আপন চাচাতো বোন। পুলিশ অস্ত্রটি বাজেয়াপ্ত করে ইমরানকে গ্রেপ্তার করেছে।

নগরজুড়ে এই বিশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপরাধে করাচি পুলিশ কঠোর অভিযান পরিচালনা করে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, শূন্যে ছোড়া গুলি মাধ্যাকর্ষণের টানে যখন তীব্র বেগে ভূমিতে ফিরে আসে, তখন তা মারণাস্ত্রের রূপ নিয়ে নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা উদযাপনের নামে করাচিতে এ ধরনের প্রাণঘাতী গুলিবর্ষণের ঘটনা নতুন নয়। গত বছর ২০২৫ সালের একই উৎসবে ৩ জন নিহত ও ৭৫ জন আহত হয়েছিলেন এবং ২০২৪ সালে আহত হয়েছিলেন ৯৫ জন নাগরিক। প্রতিবছর কর্তৃপক্ষের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও আইনগত হুঁশিয়ারি থাকা সত্ত্বেও নাগরিক সচেতনতার অভাব ও অস্ত্রের অবাধ ব্যবহারের কারণে এমন মর্মান্তিক পুনরাবৃত্তি ঘটছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ