সার্বিয়ায় গত প্রায় দুই দশক ধরে পৃথকভাবে পরিচালিত দুটি প্রধান ইসলামী সংস্থা—'সার্বিয়া ইসলামিক কমিউনিটি রিয়াসাত' এবং 'সার্বিয়া ইসলামিক কমিউনিটি মেশিহাত' একীভূত হওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শুক্রবার দেশটির নভি পাজার শহরে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংস্থা দুটির শীর্ষ নেতারা একটি যৌথ ঐক্য সনদে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে দুই দশকের অভ্যন্তরীণ মতভেদের অবসান ঘটিয়ে নভি পাজারকে কেন্দ্র করে সার্বিয়ার সকল মুসলিম একই ছাতার নিচে একত্রিত হলেন।
ইউরোপের বলকান অঞ্চলের দেশ সার্বিয়ায় মুসলিম সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে। ২০০৭ সাল থেকে কাঠামোগত ও প্রশাসনিক মতপার্থক্য এবং নানা জটিলতার কারণে 'সার্বিয়া ইসলামিক কমিউনিটি রিয়াসাত' ও 'সার্বিয়া ইসলামিক কমিউনিটি মেশিহাত' আলাদা সংস্থা হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
নভি পাজারে আয়োজিত আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা "সার্বিয়ার ইসলামী সম্প্রদায় ঐক্য সনদ" নামক ঐতিহাসিক দলিলে সই করেন। নতুন এই চুক্তির অধীনে নভি পাজারে প্রধান কার্যালয় স্থাপন করে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। একীভূত এই নতুন একক ইসলামী কাঠামোর সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করবেন 'মেশিহাত'-এর বর্তমান প্রধান মাওলানা মেভলুদ দুদিচ।
অনুষ্ঠানে সার্বিয়া ইসলামিক কমিউনিটি রিয়াসাতের প্রধান সেনাদ হালিটোভিচ এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আখ্যা দিয়ে বলেন, "সার্বিয়ার মুসলিমরা গত বিশ বছর ধরে অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং সময় পার করেছেন। আজকের এই দিনটি একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করল। এই ঐক্যে কারও পরাজয় হয়নি; বরঞ্চ সার্বিয়ার প্রতিটি মুসলিম আজ বিজয়ী হয়েছে।"
একই অনুষ্ঠানে নবগঠিত ঐক্যবদ্ধ সংস্থার প্রধান মেভলুদ দুদিচ মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "আজকের এই স্বাক্ষর তাদের সকলের বড় জয়, যারা ভবিষ্যতে বিভাজনের অন্ধকার রেখে যেতে চাননি। আমরা সবাই মিলে প্রমাণ করেছি যে পারস্পরিক সদিচ্ছা থাকলে সব দূরত্ব মুছে ফেলা সম্ভব।"
সার্বিয়ার মুসলিমদের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ বোস্নিয়া ও হার্জেগোভিনার শীর্ষ ইসলামী নেতৃত্ব। বোস্নিয়া ও হার্জেগোভিনা ইসলামিক কমিউনিটির প্রধান (রাইস-উল-ওলামা) হুসেইন কাভাজোভিচ এক বার্তায় সার্বিয়ার মুসলিমদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বলকান অঞ্চলে মুসলিমদের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং তাদের ধর্মীয় স্থিতিশীলতা সুসংহত করতে এই ঐক্য মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় মানবাধিকার ও ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা।
বিষয় : সার্বিয়া

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
সার্বিয়ায় গত প্রায় দুই দশক ধরে পৃথকভাবে পরিচালিত দুটি প্রধান ইসলামী সংস্থা—'সার্বিয়া ইসলামিক কমিউনিটি রিয়াসাত' এবং 'সার্বিয়া ইসলামিক কমিউনিটি মেশিহাত' একীভূত হওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শুক্রবার দেশটির নভি পাজার শহরে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংস্থা দুটির শীর্ষ নেতারা একটি যৌথ ঐক্য সনদে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে দুই দশকের অভ্যন্তরীণ মতভেদের অবসান ঘটিয়ে নভি পাজারকে কেন্দ্র করে সার্বিয়ার সকল মুসলিম একই ছাতার নিচে একত্রিত হলেন।
ইউরোপের বলকান অঞ্চলের দেশ সার্বিয়ায় মুসলিম সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে। ২০০৭ সাল থেকে কাঠামোগত ও প্রশাসনিক মতপার্থক্য এবং নানা জটিলতার কারণে 'সার্বিয়া ইসলামিক কমিউনিটি রিয়াসাত' ও 'সার্বিয়া ইসলামিক কমিউনিটি মেশিহাত' আলাদা সংস্থা হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
নভি পাজারে আয়োজিত আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা "সার্বিয়ার ইসলামী সম্প্রদায় ঐক্য সনদ" নামক ঐতিহাসিক দলিলে সই করেন। নতুন এই চুক্তির অধীনে নভি পাজারে প্রধান কার্যালয় স্থাপন করে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। একীভূত এই নতুন একক ইসলামী কাঠামোর সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করবেন 'মেশিহাত'-এর বর্তমান প্রধান মাওলানা মেভলুদ দুদিচ।
অনুষ্ঠানে সার্বিয়া ইসলামিক কমিউনিটি রিয়াসাতের প্রধান সেনাদ হালিটোভিচ এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আখ্যা দিয়ে বলেন, "সার্বিয়ার মুসলিমরা গত বিশ বছর ধরে অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং সময় পার করেছেন। আজকের এই দিনটি একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করল। এই ঐক্যে কারও পরাজয় হয়নি; বরঞ্চ সার্বিয়ার প্রতিটি মুসলিম আজ বিজয়ী হয়েছে।"
একই অনুষ্ঠানে নবগঠিত ঐক্যবদ্ধ সংস্থার প্রধান মেভলুদ দুদিচ মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "আজকের এই স্বাক্ষর তাদের সকলের বড় জয়, যারা ভবিষ্যতে বিভাজনের অন্ধকার রেখে যেতে চাননি। আমরা সবাই মিলে প্রমাণ করেছি যে পারস্পরিক সদিচ্ছা থাকলে সব দূরত্ব মুছে ফেলা সম্ভব।"
সার্বিয়ার মুসলিমদের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশ বোস্নিয়া ও হার্জেগোভিনার শীর্ষ ইসলামী নেতৃত্ব। বোস্নিয়া ও হার্জেগোভিনা ইসলামিক কমিউনিটির প্রধান (রাইস-উল-ওলামা) হুসেইন কাভাজোভিচ এক বার্তায় সার্বিয়ার মুসলিমদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বলকান অঞ্চলে মুসলিমদের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং তাদের ধর্মীয় স্থিতিশীলতা সুসংহত করতে এই ঐক্য মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় মানবাধিকার ও ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন