মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ছয় মাস পরও বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ১০ থেকে ১৪ শতাংশ বাজারে পৌঁছাতে পারছে না। বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার কথা থাকলেও তেলের দাম প্রত্যাশার তুলনায় স্থিতিশীল রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল আমদানিকারক দেশ চীন নিজেদের কৌশলগত মজুত থেকে তেল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে এই নজিরবিহীন স্থিতিশীলতা রক্ষা পেয়েছে।
সংকটময় পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বৈশ্বিক অর্থনীতির নির্ভরতা আবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হতো, যা বিশ্বের দৈনিক মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। তবে প্রণালিটি অবরুদ্ধ হওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধাক্কার মুখে পড়ে।
ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অতীতে সামান্য সরবরাহ বিঘ্ন ঘটলেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল:
এর বিপরীতে, বর্তমান সংকট দীর্ঘ ছয় মাস ধরে চললেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। বছরের শুরুতে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল (ব্রেন্ট ক্রুড) প্রায় ৬০ ডলার থাকলেও সংকটকালে তা মাত্র ৫০ শতাংশের মতো বেড়ে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই ভারসাম্যের পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে চীনের সময়োপযোগী নীতি। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চড়া দাম থাকা সত্ত্বেও চীন বিশ্ববাজার থেকে নতুন করে বিপুল পরিমাণ তেল না কিনে নিজেদের আগেই গড়ে তোলা কৌশলগত জাতীয় মজুত (Strategic Petroleum Reserve) উন্মুক্ত করেছে। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশের বাড়তি চাহিদার চাপ সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে না পড়ে এক ধরনের কৃত্রিম ভারসাম্য তৈরি করেছে, যা উদীয়মান ও মুসলিম দেশগুলোর জ্বালানি অর্থনীতিকে তাৎক্ষণিক বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে।
বিষয় : মধ্যপ্রাচ্য চীন হরমুজ প্রণালী
.png)
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ছয় মাস পরও বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ১০ থেকে ১৪ শতাংশ বাজারে পৌঁছাতে পারছে না। বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার কথা থাকলেও তেলের দাম প্রত্যাশার তুলনায় স্থিতিশীল রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল আমদানিকারক দেশ চীন নিজেদের কৌশলগত মজুত থেকে তেল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে এই নজিরবিহীন স্থিতিশীলতা রক্ষা পেয়েছে।
সংকটময় পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বৈশ্বিক অর্থনীতির নির্ভরতা আবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হতো, যা বিশ্বের দৈনিক মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। তবে প্রণালিটি অবরুদ্ধ হওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধাক্কার মুখে পড়ে।
ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অতীতে সামান্য সরবরাহ বিঘ্ন ঘটলেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল:
এর বিপরীতে, বর্তমান সংকট দীর্ঘ ছয় মাস ধরে চললেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। বছরের শুরুতে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল (ব্রেন্ট ক্রুড) প্রায় ৬০ ডলার থাকলেও সংকটকালে তা মাত্র ৫০ শতাংশের মতো বেড়ে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই ভারসাম্যের পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে চীনের সময়োপযোগী নীতি। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চড়া দাম থাকা সত্ত্বেও চীন বিশ্ববাজার থেকে নতুন করে বিপুল পরিমাণ তেল না কিনে নিজেদের আগেই গড়ে তোলা কৌশলগত জাতীয় মজুত (Strategic Petroleum Reserve) উন্মুক্ত করেছে। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশের বাড়তি চাহিদার চাপ সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে না পড়ে এক ধরনের কৃত্রিম ভারসাম্য তৈরি করেছে, যা উদীয়মান ও মুসলিম দেশগুলোর জ্বালানি অর্থনীতিকে তাৎক্ষণিক বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন