সৌদি আরবের মদিনার মসজিদে নববীতে ২১ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার অনুষ্ঠিত জুমার খুতবায় প্রখ্যাত ইমাম ও খতিব ড. আহমেদ বিন আলী আল-হুজাইফি তীব্র গরম ও গ্রীষ্মের প্রখরতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঋতু পরিবর্তন এবং প্রকৃতির কঠোর রূপ আল্লাহর সীমাহীন কুদরত ও মহিমারই নিদর্শন। এই চরম আবহাওয়া বিশ্বাসীদের পরকালের কথা মনে করিয়ে দেয় এবং ধৈর্য ধারণের শিক্ষা দেয়।
মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব ড. আহমেদ বিন আলী আল-হুজাইফি জুমার খুতবার শুরুতে উপস্থিত মুসল্লিদের তাকওয়া বা খোদাভীতি অবলম্বনের তাগিদ দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, আল্লাহর তাকওয়াই চূড়ান্ত সফলতা ও সুখের একমাত্র পথ এবং দুনিয়া ও আখেরাতের সর্বোত্তম সম্বল।
খতিব বলেন, বর্তমানে আমরা যে তীব্র গ্রীষ্মের দাবদাহ ও প্রখর উত্তাপের অভিজ্ঞতা অর্জন করছি, তা নিছক কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা নয়; বরং এটি চিন্তা ও ভাবনার গভীর খোরাক। প্রকৃতির এই রূপ মুমিনদের মহান আল্লাহর রবুবিয়াত (প্রভুত্ব) ও কুদরত সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি অনুরাগী বান্দাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, আল্লাহ তাআলাই দিন-রাত্রি ও মাস-বছরের পরিবর্তন ঘটান এবং তাঁর সৃষ্টির সমস্ত বিষয় পরিচালনা করেন।
তিনি পবিত্র কুরআনের সূরা আল-কাসাসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আল্লাহ ঘোষণা করেছেন—যদি তিনি দিন বা রাতকে কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী করে দিতেন, তবে আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপাস্য আছে যা তোমাদের আলো বা বিশ্রামের রাত এনে দিতে পারে? অতএব, যিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, একমাত্র তিনিই নিরঙ্কুশ ইবাদতের যোগ্য।
খতিব আরও ব্যাখ্যা করেন যে, আবহাওয়া ও ঋতুর পরিবর্তন আমাদের দুনিয়ার অস্থির ও পরিবর্তনশীল স্বভাবের কথা মনে করিয়ে দেয়। দুনিয়ার জীবন কখনো এক অবস্থায় থাকে না। সুখ-দুঃখ, স্বাচ্ছন্দ্য ও কষ্ট পর্যায়ক্রমে আসে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা পার্থিব জীবনকে ফসলের সাথে তুলনা করেছেন, যা সবুজ থেকে হলুদ হয়ে অবশেষে খড়কুটোয় পরিণত হয়।
খুতবার শেষাংশে ড. হুজাইফি আল-কুরআনের সূরা আত-তাওবার ৮১ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, মানুষ স্বভাবতই আরামপ্রিয়। কিন্তু অলসতা ও অবহেলার পরিণাম ভয়াবহ। যারা তীব্র গরমের অজুহাতে সৎকাজ থেকে পিছিয়ে থাকে, তাদের জানা উচিত যে জাহান্নামের আগুন এর চেয়েও বহু গুণ বেশি উত্তপ্ত। তিনি মুমিনদের আহ্বান জানান যে, সামান্য কষ্টের বিনিময়ে আখেরাতের চিরন্তন সুখ অর্জন করার মানসিকতা লালন করাই প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা।
বিষয় : সৌদি আরব মসজিদে নববী খুতবা

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
সৌদি আরবের মদিনার মসজিদে নববীতে ২১ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার অনুষ্ঠিত জুমার খুতবায় প্রখ্যাত ইমাম ও খতিব ড. আহমেদ বিন আলী আল-হুজাইফি তীব্র গরম ও গ্রীষ্মের প্রখরতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঋতু পরিবর্তন এবং প্রকৃতির কঠোর রূপ আল্লাহর সীমাহীন কুদরত ও মহিমারই নিদর্শন। এই চরম আবহাওয়া বিশ্বাসীদের পরকালের কথা মনে করিয়ে দেয় এবং ধৈর্য ধারণের শিক্ষা দেয়।
মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব ড. আহমেদ বিন আলী আল-হুজাইফি জুমার খুতবার শুরুতে উপস্থিত মুসল্লিদের তাকওয়া বা খোদাভীতি অবলম্বনের তাগিদ দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, আল্লাহর তাকওয়াই চূড়ান্ত সফলতা ও সুখের একমাত্র পথ এবং দুনিয়া ও আখেরাতের সর্বোত্তম সম্বল।
খতিব বলেন, বর্তমানে আমরা যে তীব্র গ্রীষ্মের দাবদাহ ও প্রখর উত্তাপের অভিজ্ঞতা অর্জন করছি, তা নিছক কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা নয়; বরং এটি চিন্তা ও ভাবনার গভীর খোরাক। প্রকৃতির এই রূপ মুমিনদের মহান আল্লাহর রবুবিয়াত (প্রভুত্ব) ও কুদরত সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি অনুরাগী বান্দাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, আল্লাহ তাআলাই দিন-রাত্রি ও মাস-বছরের পরিবর্তন ঘটান এবং তাঁর সৃষ্টির সমস্ত বিষয় পরিচালনা করেন।
তিনি পবিত্র কুরআনের সূরা আল-কাসাসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আল্লাহ ঘোষণা করেছেন—যদি তিনি দিন বা রাতকে কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী করে দিতেন, তবে আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপাস্য আছে যা তোমাদের আলো বা বিশ্রামের রাত এনে দিতে পারে? অতএব, যিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, একমাত্র তিনিই নিরঙ্কুশ ইবাদতের যোগ্য।
খতিব আরও ব্যাখ্যা করেন যে, আবহাওয়া ও ঋতুর পরিবর্তন আমাদের দুনিয়ার অস্থির ও পরিবর্তনশীল স্বভাবের কথা মনে করিয়ে দেয়। দুনিয়ার জীবন কখনো এক অবস্থায় থাকে না। সুখ-দুঃখ, স্বাচ্ছন্দ্য ও কষ্ট পর্যায়ক্রমে আসে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা পার্থিব জীবনকে ফসলের সাথে তুলনা করেছেন, যা সবুজ থেকে হলুদ হয়ে অবশেষে খড়কুটোয় পরিণত হয়।
খুতবার শেষাংশে ড. হুজাইফি আল-কুরআনের সূরা আত-তাওবার ৮১ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, মানুষ স্বভাবতই আরামপ্রিয়। কিন্তু অলসতা ও অবহেলার পরিণাম ভয়াবহ। যারা তীব্র গরমের অজুহাতে সৎকাজ থেকে পিছিয়ে থাকে, তাদের জানা উচিত যে জাহান্নামের আগুন এর চেয়েও বহু গুণ বেশি উত্তপ্ত। তিনি মুমিনদের আহ্বান জানান যে, সামান্য কষ্টের বিনিময়ে আখেরাতের চিরন্তন সুখ অর্জন করার মানসিকতা লালন করাই প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা।

আপনার মতামত লিখুন