সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

আক্রান্ত সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি; সংঘাত ও টিকার অভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞ ও ডব্লিউএইচও-র।

কঙ্গোতে ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: মৃত্যু বেড়ে ২৬৪২, বৈশ্বিক জরুরি অবস্থার ডাক



কঙ্গোতে ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: মৃত্যু বেড়ে ২৬৪২, বৈশ্বিক জরুরি অবস্থার ডাক

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআরসি) ইবোলা ভাইরাসের ১৭তম প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, আক্রান্তের সংখ্যা ৫,৫১৫ জনে পৌঁছেছে এবং মারা গেছেন ২,৬৪২ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এটিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করে প্রতিবেশী উগান্ডাসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছে।

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআরসি) ইবোলা ভাইরাস সংক্রমণ চরম আশঙ্কাজনক আকার ধারণ করেছে। দেশটির ইতুরি ও নর্থ কিভু প্রদেশে সম্প্রতি নতুন করে ৫১ জন আক্রান্ত হওয়ার পর মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫,৫১৫ জনে। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাব কঙ্গোর ইতিহাসে অন্যতম প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসলে এটি ২০১৪-২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ছড়ানো মহামারির (যেখানে ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান) রেকর্ড ছাপিয়ে যেতে পারে।

উদ্বেগজনক মৃত্যুহার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঝুঁকি জুনের শুরুতে ইবোলায় মৃত্যুহার প্রায় ২০ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে সরকারি তথ্যানুসারে তা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ৪৮ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ সংক্রামিত প্রতি দুজনের মধ্যে প্রায় একজন মারা যাচ্ছেন। কোনো কোনো এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মৃত্যুহার ৮৫ শতাংশেরও বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। চিকিৎসা দিতে গিয়ে চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১৬০ জন স্বাস্থ্যকর্মী ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ৪৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

সংঘাত ও অবকাঠামোগত সংকট প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আক্রান্ত অঞ্চলগুলোর সশস্ত্র সংঘাত ও মানুষের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি। স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চিকিৎসাকর্মীদের ওপর অব্যাহত হামলা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। পাশাপাশি দরিদ্র অবকাঠামো এবং কাজের প্রয়োজনে মানুষের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় অবাধ চলাচল রোগটির সামাজিক বিস্তার বাড়িয়ে দিচ্ছে।

টিকার ঘাটতি ও বিশেষজ্ঞ সতর্কবার্তা বর্তমান প্রাদুর্ভাবে ইবোলার 'বুন্দিবুগিও' নামক একটি বিরল ধরন ছড়িয়ে পড়েছে, যার নির্দিষ্ট কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি এখনো নেই। তবে ডব্লিউএইচও পূর্বের প্রাদুর্ভাবে কার্যকর 'এরভেবো' টিকার ৭০ হাজার ডোজ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস ডিআরসিতে বর্তমান প্রতিরোধ কার্যক্রম দুই থেকে তিন গুণ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবদুসসালামি নাসিদি সতর্ক করে বলেছেন, "পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে; এটি এখন আর শুধু একটি আঞ্চলিক সংকট নয়, বরং বৈশ্বিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।" আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল ও ধর্মীয় নেতারাও এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিষয় : মৃত্যুদণ্ড কঙ্গোত ইবোলা

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


কঙ্গোতে ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: মৃত্যু বেড়ে ২৬৪২, বৈশ্বিক জরুরি অবস্থার ডাক

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআরসি) ইবোলা ভাইরাসের ১৭তম প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, আক্রান্তের সংখ্যা ৫,৫১৫ জনে পৌঁছেছে এবং মারা গেছেন ২,৬৪২ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এটিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করে প্রতিবেশী উগান্ডাসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছে।

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআরসি) ইবোলা ভাইরাস সংক্রমণ চরম আশঙ্কাজনক আকার ধারণ করেছে। দেশটির ইতুরি ও নর্থ কিভু প্রদেশে সম্প্রতি নতুন করে ৫১ জন আক্রান্ত হওয়ার পর মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫,৫১৫ জনে। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাব কঙ্গোর ইতিহাসে অন্যতম প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসলে এটি ২০১৪-২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ছড়ানো মহামারির (যেখানে ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান) রেকর্ড ছাপিয়ে যেতে পারে।

উদ্বেগজনক মৃত্যুহার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঝুঁকি জুনের শুরুতে ইবোলায় মৃত্যুহার প্রায় ২০ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে সরকারি তথ্যানুসারে তা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ৪৮ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ সংক্রামিত প্রতি দুজনের মধ্যে প্রায় একজন মারা যাচ্ছেন। কোনো কোনো এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মৃত্যুহার ৮৫ শতাংশেরও বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। চিকিৎসা দিতে গিয়ে চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১৬০ জন স্বাস্থ্যকর্মী ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ৪৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

সংঘাত ও অবকাঠামোগত সংকট প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আক্রান্ত অঞ্চলগুলোর সশস্ত্র সংঘাত ও মানুষের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি। স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চিকিৎসাকর্মীদের ওপর অব্যাহত হামলা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। পাশাপাশি দরিদ্র অবকাঠামো এবং কাজের প্রয়োজনে মানুষের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় অবাধ চলাচল রোগটির সামাজিক বিস্তার বাড়িয়ে দিচ্ছে।

টিকার ঘাটতি ও বিশেষজ্ঞ সতর্কবার্তা বর্তমান প্রাদুর্ভাবে ইবোলার 'বুন্দিবুগিও' নামক একটি বিরল ধরন ছড়িয়ে পড়েছে, যার নির্দিষ্ট কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি এখনো নেই। তবে ডব্লিউএইচও পূর্বের প্রাদুর্ভাবে কার্যকর 'এরভেবো' টিকার ৭০ হাজার ডোজ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস ডিআরসিতে বর্তমান প্রতিরোধ কার্যক্রম দুই থেকে তিন গুণ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবদুসসালামি নাসিদি সতর্ক করে বলেছেন, "পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে; এটি এখন আর শুধু একটি আঞ্চলিক সংকট নয়, বরং বৈশ্বিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।" আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল ও ধর্মীয় নেতারাও এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ