পবিত্র মসজিদুল হারামের খতিব ও ইমাম আল-শেখ ড. আবদুল্লাহ বিন আওয়াদ আল-জুহানী তাঁর জুমার খুতবায় মুসলমানদের তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মানুষকে একমাত্র মহান আল্লাহর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। সঠিক উপাসনার জন্য ইলম বা দ্বীনি জ্ঞানার্জন অত্যাবশ্যক। প্রকৃত আলেম বা উলামায়ে কেরাম হলেন নবীদের ওয়্যারিস এবং জাতির দিশারী।
পবিত্র মক্কা মুকাররমায় অবস্থিত মসজিদুল হারামে প্রদত্ত জুমার খুতবায় খতিব ড. আবদুল্লাহ বিন আওয়াদ আল-জুহানী জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাকওয়া অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তাকওয়াই হলো সর্বপ্রকার কল্যাণের কেন্দ্রবিন্দু এবং সফলতা অর্জনের প্রধান উৎস।
খতিব তাঁর বক্তব্যে বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে শুধুমাত্র তাঁর ইবাদত করার উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। এই মহান লক্ষ্য অর্জনের জন্যই তিনি যুগে যুগে নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন এবং আসমানী কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। ইবাদত যেন সঠিক শরীয়াহ সম্মত উপায়ে ও হেদায়েতের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়, সেজন্য জ্ঞানের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআন প্রমাণ করে যে, যেকোনো আমল বা কর্মের পূর্বে সঠিক জ্ঞানার্জন জরুরি।
উলামায়ে কেরামের সুউচ্চ মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে খতিব বলেন, ইসলামে 'রাব্বানী' তথা হক্কানী আলেমদের স্থান অত্যন্ত উঁচুতে। সাত আসমানের ওপর থেকে আল্লাহ তাআলা তাঁর তাওহীদের সাক্ষ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ফেরেশতাদের পাশাপাশি সত্যবাদী আলেমদের অন্তর্ভুক্ত করে তাঁদের সম্মানিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, "আলেমগণ হলেন নবীদের প্রকৃত উত্তরাধিকারী (ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া)। তাঁরা আঁধার রাতের প্রদীপ, হেদায়েতের ইমাম এবং জমিনে আল্লাহর দরবারে হুজ্জত বা প্রমাণ স্বরূপ। তাঁদের জ্ঞানের আলোয় বিভ্রান্তি দূর হয় এবং মানব অন্তরের সংশয় কেটে যায়। শয়তানের চক্রান্ত ব্যর্থ করতে এবং ঈমানকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে উলামাদের ভূমিকা অপরিসীম।"
খতিব আরও উল্লেখ করেন, চরমপন্থীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের অপপ্রচার এবং অজ্ঞদের ভুল ব্যাখ্যা থেকে দ্বীনকে পবিত্র রাখতে উলামায়ে কেরাম সর্বদা ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
শিক্ষা ব্যবস্থা ও অভিভাবকদের প্রতি নসীহত করে শেখ জুহানী বলেন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের কাঁধে তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তোলার আমানত রয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উচিত পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ ও সততা গড়ে তোলা। শ্রেণীকক্ষে কেবল মুখের বাণী নয়, নিজেদের উত্তম আচরণের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্য তিনি আহ্বান জানান। একই সাথে অভিভাবকদের সন্তানদের মধ্যে নিয়মিত সালাত আদায়, সত্যবাদিতা ও নম্রতার শিক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
বিষয় : সৌদি আরব মক্কা খুতবা মসজিদুল হারাম

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
পবিত্র মসজিদুল হারামের খতিব ও ইমাম আল-শেখ ড. আবদুল্লাহ বিন আওয়াদ আল-জুহানী তাঁর জুমার খুতবায় মুসলমানদের তাকওয়া অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মানুষকে একমাত্র মহান আল্লাহর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। সঠিক উপাসনার জন্য ইলম বা দ্বীনি জ্ঞানার্জন অত্যাবশ্যক। প্রকৃত আলেম বা উলামায়ে কেরাম হলেন নবীদের ওয়্যারিস এবং জাতির দিশারী।
পবিত্র মক্কা মুকাররমায় অবস্থিত মসজিদুল হারামে প্রদত্ত জুমার খুতবায় খতিব ড. আবদুল্লাহ বিন আওয়াদ আল-জুহানী জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাকওয়া অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তাকওয়াই হলো সর্বপ্রকার কল্যাণের কেন্দ্রবিন্দু এবং সফলতা অর্জনের প্রধান উৎস।
খতিব তাঁর বক্তব্যে বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে শুধুমাত্র তাঁর ইবাদত করার উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। এই মহান লক্ষ্য অর্জনের জন্যই তিনি যুগে যুগে নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন এবং আসমানী কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। ইবাদত যেন সঠিক শরীয়াহ সম্মত উপায়ে ও হেদায়েতের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়, সেজন্য জ্ঞানের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআন প্রমাণ করে যে, যেকোনো আমল বা কর্মের পূর্বে সঠিক জ্ঞানার্জন জরুরি।
উলামায়ে কেরামের সুউচ্চ মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে খতিব বলেন, ইসলামে 'রাব্বানী' তথা হক্কানী আলেমদের স্থান অত্যন্ত উঁচুতে। সাত আসমানের ওপর থেকে আল্লাহ তাআলা তাঁর তাওহীদের সাক্ষ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ফেরেশতাদের পাশাপাশি সত্যবাদী আলেমদের অন্তর্ভুক্ত করে তাঁদের সম্মানিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, "আলেমগণ হলেন নবীদের প্রকৃত উত্তরাধিকারী (ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া)। তাঁরা আঁধার রাতের প্রদীপ, হেদায়েতের ইমাম এবং জমিনে আল্লাহর দরবারে হুজ্জত বা প্রমাণ স্বরূপ। তাঁদের জ্ঞানের আলোয় বিভ্রান্তি দূর হয় এবং মানব অন্তরের সংশয় কেটে যায়। শয়তানের চক্রান্ত ব্যর্থ করতে এবং ঈমানকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে উলামাদের ভূমিকা অপরিসীম।"
খতিব আরও উল্লেখ করেন, চরমপন্থীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের অপপ্রচার এবং অজ্ঞদের ভুল ব্যাখ্যা থেকে দ্বীনকে পবিত্র রাখতে উলামায়ে কেরাম সর্বদা ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
শিক্ষা ব্যবস্থা ও অভিভাবকদের প্রতি নসীহত করে শেখ জুহানী বলেন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের কাঁধে তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তোলার আমানত রয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উচিত পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ ও সততা গড়ে তোলা। শ্রেণীকক্ষে কেবল মুখের বাণী নয়, নিজেদের উত্তম আচরণের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্য তিনি আহ্বান জানান। একই সাথে অভিভাবকদের সন্তানদের মধ্যে নিয়মিত সালাত আদায়, সত্যবাদিতা ও নম্রতার শিক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আপনার মতামত লিখুন