শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

১৫০ গজের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফুলবাড়ী সীমান্তে সড়ক ও কাঁটাতার নির্মাণে উত্তেজনা; বিজিবির বাধায় সরঞ্জাম সরাতে বাধ্য বিএসএফ

আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের কাঁটাতার ও সড়ক নির্মাণের চেষ্টা


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের কাঁটাতার ও সড়ক নির্মাণের চেষ্টা

বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ১৫০ গজের নিষিদ্ধ এলাকার ভেতরে কাঁটাতারের বেড়া ও সড়ক নির্মাণের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। এতে বিজিবির বাধা ও প্রতিবাদের মুখে দুই বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিএসএফ নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার খলিশাকোঠাল সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও সড়ক নির্মাণের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ—এমন অভিযোগে সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে খলিশাকোঠাল সীমান্ত এলাকায়, যেখানে আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৯৩৪-এর নিকটবর্তী অঞ্চলে নির্মাণকাজ শুরু করে বিএসএফ।

বিজিবির পক্ষ থেকে নির্মাণকাজে বাধা ও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে খলিশাকোঠাল সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৯৩৪-এর কাছে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনস্থ বালারহাট বিওপির কমান্ডার সুবেদার আবু তাহের। ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার মেঘ নারায়নকুঠি ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর দীপক কুমার।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, খলিশাকোঠাল সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৯৩৪-এর সাব পিলার ১ নম্বর থেকে পিলার ৯৩৪-এর সাব পিলার ১১ নম্বর পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়ক রয়েছে। এই সড়কটি ভারতের অভ্যন্তরে কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার করলা এলাকা হয়ে কুর্শাহাট থেকে দিনহাটা যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয়।

সমস্যার মূল কারণ হলো—এই সড়কের পুরো অংশটি বাংলাদেশ সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত। কোথাও ৭০ গজ, কোথাও ৬০ গজ এবং কোথাও মাত্র ৫০ গজ দূরত্বে এই সড়কটি অবস্থান করছে। ফলে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুযায়ী ১৫০ গজের নিষিদ্ধ এলাকার ভেতরে পড়ায় সড়কটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।

স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, অতীতেও একাধিকবার বিএসএফ এই সড়কের পাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা চালিয়েছে। তবে প্রতিবারই আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ১৫০ গজের বাইরে সড়ক ও স্থাপনা না থাকায় বিজিবির যৌক্তিক আপত্তির মুখে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। এবারও একইভাবে আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে ওই প্রায় ১ কিলোমিটার সড়কের পাশে নতুন সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করে বিএসএফ।

বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য আপত্তি জানালেও বিএসএফ প্রথমে সেই আপত্তিতে কর্ণপাত না করে কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। এতে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উভয় বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পতাকা বৈঠক শেষে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনস্থ বালারহাট বিওপির কমান্ডার সুবেদার আবু তাহের সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিএসএফ সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জাম ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্ত চুক্তি মেনে চলার বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়েছে।

বিষয় : বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের কাঁটাতার ও সড়ক নির্মাণের চেষ্টা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ১৫০ গজের নিষিদ্ধ এলাকার ভেতরে কাঁটাতারের বেড়া ও সড়ক নির্মাণের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। এতে বিজিবির বাধা ও প্রতিবাদের মুখে দুই বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিএসএফ নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার খলিশাকোঠাল সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও সড়ক নির্মাণের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ—এমন অভিযোগে সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে খলিশাকোঠাল সীমান্ত এলাকায়, যেখানে আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৯৩৪-এর নিকটবর্তী অঞ্চলে নির্মাণকাজ শুরু করে বিএসএফ।

বিজিবির পক্ষ থেকে নির্মাণকাজে বাধা ও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে খলিশাকোঠাল সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৯৩৪-এর কাছে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনস্থ বালারহাট বিওপির কমান্ডার সুবেদার আবু তাহের। ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার মেঘ নারায়নকুঠি ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর দীপক কুমার।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, খলিশাকোঠাল সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৯৩৪-এর সাব পিলার ১ নম্বর থেকে পিলার ৯৩৪-এর সাব পিলার ১১ নম্বর পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়ক রয়েছে। এই সড়কটি ভারতের অভ্যন্তরে কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার করলা এলাকা হয়ে কুর্শাহাট থেকে দিনহাটা যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয়।

সমস্যার মূল কারণ হলো—এই সড়কের পুরো অংশটি বাংলাদেশ সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত। কোথাও ৭০ গজ, কোথাও ৬০ গজ এবং কোথাও মাত্র ৫০ গজ দূরত্বে এই সড়কটি অবস্থান করছে। ফলে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুযায়ী ১৫০ গজের নিষিদ্ধ এলাকার ভেতরে পড়ায় সড়কটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।

স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, অতীতেও একাধিকবার বিএসএফ এই সড়কের পাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা চালিয়েছে। তবে প্রতিবারই আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ১৫০ গজের বাইরে সড়ক ও স্থাপনা না থাকায় বিজিবির যৌক্তিক আপত্তির মুখে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। এবারও একইভাবে আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে ওই প্রায় ১ কিলোমিটার সড়কের পাশে নতুন সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করে বিএসএফ।

বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য আপত্তি জানালেও বিএসএফ প্রথমে সেই আপত্তিতে কর্ণপাত না করে কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। এতে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উভয় বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পতাকা বৈঠক শেষে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনস্থ বালারহাট বিওপির কমান্ডার সুবেদার আবু তাহের সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিএসএফ সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জাম ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্ত চুক্তি মেনে চলার বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত