শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

ভোরে পাহাড় কাটার সময় মাটি চাপা পড়ে প্রাণ হারালেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি

উখিয়ায় অবৈধ পাহাড় কাটার বলি আরও এক শ্রমিক: প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন


আর জে রাফি
আর জে রাফি
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

উখিয়ায় অবৈধ পাহাড় কাটার বলি আরও এক শ্রমিক: প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

কক্সবাজারের উখিয়ায় আবারও অবৈধ পাহাড় কাটার বলি হয়েছেন এক শ্রমিক। শুক্রবার ভোররাতে জালিয়াপালং ইউনিয়নে পাহাড় কাটার সময় মাটি চাপা পড়ে নুরুল আমিন (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। পরিবেশ আইন অমান্য করে প্রকাশ্যে পাহাড় সাবাড় করার এই সংস্কৃতি উখিয়ায় সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জনৈক হেলাল নামক এক ব্যক্তির সরাসরি তত্ত্বাবধানে ও নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে একটি পাহাড় কাটার কাজ চলছিল। ঘন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে পাহাড়ের মাটি কাটার সময় হঠাৎ বিশাল একটি অংশ ধসে পড়ে।

নিহত নুরুল আমিন (৩০) ওই এলাকার মির আহমদের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধসের সময় তিনি পাহাড়ের নিচে কাজ করছিলেন এবং মুহূর্তেই কয়েক টন মাটির নিচে তলিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করলেও মাটি সরিয়ে যখন তাকে বের করা হয়, ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে; উল্লেখ্য যে, নুরুল আমিন ছিলেন তার দরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য।

প্রশাসনের ভূমিকা ও স্থানীয় ক্ষোভ: উখিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অবৈধ পাহাড় কাটার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও প্রচলিত ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

তবে স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের দাবি, প্রশাসনের যথাযথ নজরদারির অভাবে জালিয়াপালং এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে পাহাড় কাটার মহোৎসব চলছে। প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রাতে ও ভোরে পাহাড় কেটে ট্রাকযোগে মাটি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। বারবার দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি ঘটলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বন্ধ, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহতের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিষয় : উখিয়া

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


উখিয়ায় অবৈধ পাহাড় কাটার বলি আরও এক শ্রমিক: প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের উখিয়ায় আবারও অবৈধ পাহাড় কাটার বলি হয়েছেন এক শ্রমিক। শুক্রবার ভোররাতে জালিয়াপালং ইউনিয়নে পাহাড় কাটার সময় মাটি চাপা পড়ে নুরুল আমিন (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। পরিবেশ আইন অমান্য করে প্রকাশ্যে পাহাড় সাবাড় করার এই সংস্কৃতি উখিয়ায় সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জনৈক হেলাল নামক এক ব্যক্তির সরাসরি তত্ত্বাবধানে ও নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে একটি পাহাড় কাটার কাজ চলছিল। ঘন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে পাহাড়ের মাটি কাটার সময় হঠাৎ বিশাল একটি অংশ ধসে পড়ে।

নিহত নুরুল আমিন (৩০) ওই এলাকার মির আহমদের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধসের সময় তিনি পাহাড়ের নিচে কাজ করছিলেন এবং মুহূর্তেই কয়েক টন মাটির নিচে তলিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করলেও মাটি সরিয়ে যখন তাকে বের করা হয়, ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে; উল্লেখ্য যে, নুরুল আমিন ছিলেন তার দরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য।

প্রশাসনের ভূমিকা ও স্থানীয় ক্ষোভ: উখিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অবৈধ পাহাড় কাটার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও প্রচলিত ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

তবে স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের দাবি, প্রশাসনের যথাযথ নজরদারির অভাবে জালিয়াপালং এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে পাহাড় কাটার মহোৎসব চলছে। প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রাতে ও ভোরে পাহাড় কেটে ট্রাকযোগে মাটি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। বারবার দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি ঘটলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বন্ধ, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহতের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত