শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

কৈশোরে বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণের দায়মুক্তি পেতে রেলওয়েকে ২০ হাজার টাকা বুঝিয়ে দিলেন গাজীপুরের ষাটোর্ধ্ব মফিজুল ইসলাম

বিবেকের তাড়নায় ৫০ বছর পর রেলের ‘ঋণ’ শোধ: সততার বিরল দৃষ্টান্ত মফিজুলের


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিবেকের তাড়নায় ৫০ বছর পর রেলের ‘ঋণ’ শোধ: সততার বিরল দৃষ্টান্ত মফিজুলের

মানুষের বিবেক কখন কোন মুহূর্তে জেগে ওঠে, তা বলা কঠিন। তবে যখন জাগে, তখন তা সমাজের জন্য এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক তেমনই এক সততার নজির স্থাপন করলেন গাজীপুরের শ্রীপুরের বাসিন্দা মো. মফিজুল ইসলাম (৬০)। প্রায় পাঁচ দশক আগে কিশোর বয়সে অভাবের তাড়নায় বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণের অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পেতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন তিনি।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চন্নাপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান বেপারির ছেলে মো. মফিজুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি এলাকায় একটি মহিলা মাদ্রাসা পরিচালনা করছেন। পাঁচ সন্তানের জনক মফিজুল ইসলামের এই সততার গল্প এখন পুরো জেলায় মানুষের মুখে মুখে ফিরছে।

ঘটনার সূত্রপাত প্রায় ৫০ বছর আগে। ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৮ সালের দিকে মফিজুল ইসলাম জীবিকার তাগিদে কাঁঠালের ব্যবসা শুরু করেন। সেই সময় তিনি শ্রীপুর থেকে ট্রেনের ছাদে করে কাঁঠাল নিয়ে ঢাকায় যেতেন। মফিজুল জানান, তৎকালীন সময়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের জন্য কোনো টিকিট কাটতেন না তিনি। পরিবর্তে ট্রেনের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের হাতে ১-২ টাকা করে ধরিয়ে দিতেন। এতে তার যাতায়াত সহজ হলেও সরকারি কোষাগারে কোনো অর্থ জমা হতো না।

দীর্ঘ পাঁচ দশক পর জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মফিজুল ইসলাম গভীরভাবে অনুভব করেন যে, পুলিশের পকেটে দেওয়া সেই টাকা রেলওয়ের পাওনা শোধ করেনি। তিনি বলেন, "পুলিশকে টাকা দিলেও রেল কোম্পানি তো আমার কাছে টাকা পায়। এই দায়বদ্ধতা আমাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক কষ্টে দিচ্ছিল। বিবেকের কাছে আমি দায়বদ্ধ ছিলাম এবং সেই দায় থেকেই মুক্তি পেতে চেয়েছি।"

এই অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পেতে তিনি শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে সহকারী স্টেশন মাস্টারের কাছে ২০ হাজার টাকার টিকিট দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে স্টেশনে তাৎক্ষণিকভাবে এতো টাকার টিকিট না থাকায় তাকে এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়। অবশেষে গত ২৮শে মার্চ রেলওয়ের বিশেষ রশিদের (মানি রিসিট) মাধ্যমে তিনি ২০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন।

শ্রীপুর রেলস্টেশন মাস্টার মো. সাইদুর রহমান মফিজুল ইসলামের এই কাজে মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, "রেলওয়েতে এভাবে পুরনো বকেয়া বা দায়মুক্তির টাকা পরিশোধের আইনি বিধান রয়েছে। মফিজুল সাহেব যখন তার ভুলের কথা স্বীকার করে টাকাটা বুঝিয়ে দিলেন, তখন আমরা তার মানসিকতায় অভিভূত হয়েছি। এটি বর্তমান সমাজের জন্য একটি বড় শিক্ষা।"

মফিজুল ইসলামের এই সততা প্রমাণ করে যে, সঠিক বোধোদয় হলে মানুষ যেকোনো বয়সেই নিজের ভুল সংশোধন করতে পারে।

বিষয় : গাজীপুর রেলওয়ে ট্রেন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


বিবেকের তাড়নায় ৫০ বছর পর রেলের ‘ঋণ’ শোধ: সততার বিরল দৃষ্টান্ত মফিজুলের

প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মানুষের বিবেক কখন কোন মুহূর্তে জেগে ওঠে, তা বলা কঠিন। তবে যখন জাগে, তখন তা সমাজের জন্য এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক তেমনই এক সততার নজির স্থাপন করলেন গাজীপুরের শ্রীপুরের বাসিন্দা মো. মফিজুল ইসলাম (৬০)। প্রায় পাঁচ দশক আগে কিশোর বয়সে অভাবের তাড়নায় বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণের অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পেতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন তিনি।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চন্নাপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান বেপারির ছেলে মো. মফিজুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি এলাকায় একটি মহিলা মাদ্রাসা পরিচালনা করছেন। পাঁচ সন্তানের জনক মফিজুল ইসলামের এই সততার গল্প এখন পুরো জেলায় মানুষের মুখে মুখে ফিরছে।

ঘটনার সূত্রপাত প্রায় ৫০ বছর আগে। ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৮ সালের দিকে মফিজুল ইসলাম জীবিকার তাগিদে কাঁঠালের ব্যবসা শুরু করেন। সেই সময় তিনি শ্রীপুর থেকে ট্রেনের ছাদে করে কাঁঠাল নিয়ে ঢাকায় যেতেন। মফিজুল জানান, তৎকালীন সময়ে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের জন্য কোনো টিকিট কাটতেন না তিনি। পরিবর্তে ট্রেনের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের হাতে ১-২ টাকা করে ধরিয়ে দিতেন। এতে তার যাতায়াত সহজ হলেও সরকারি কোষাগারে কোনো অর্থ জমা হতো না।

দীর্ঘ পাঁচ দশক পর জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মফিজুল ইসলাম গভীরভাবে অনুভব করেন যে, পুলিশের পকেটে দেওয়া সেই টাকা রেলওয়ের পাওনা শোধ করেনি। তিনি বলেন, "পুলিশকে টাকা দিলেও রেল কোম্পানি তো আমার কাছে টাকা পায়। এই দায়বদ্ধতা আমাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক কষ্টে দিচ্ছিল। বিবেকের কাছে আমি দায়বদ্ধ ছিলাম এবং সেই দায় থেকেই মুক্তি পেতে চেয়েছি।"

এই অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পেতে তিনি শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে সহকারী স্টেশন মাস্টারের কাছে ২০ হাজার টাকার টিকিট দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে স্টেশনে তাৎক্ষণিকভাবে এতো টাকার টিকিট না থাকায় তাকে এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়। অবশেষে গত ২৮শে মার্চ রেলওয়ের বিশেষ রশিদের (মানি রিসিট) মাধ্যমে তিনি ২০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন।

শ্রীপুর রেলস্টেশন মাস্টার মো. সাইদুর রহমান মফিজুল ইসলামের এই কাজে মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, "রেলওয়েতে এভাবে পুরনো বকেয়া বা দায়মুক্তির টাকা পরিশোধের আইনি বিধান রয়েছে। মফিজুল সাহেব যখন তার ভুলের কথা স্বীকার করে টাকাটা বুঝিয়ে দিলেন, তখন আমরা তার মানসিকতায় অভিভূত হয়েছি। এটি বর্তমান সমাজের জন্য একটি বড় শিক্ষা।"

মফিজুল ইসলামের এই সততা প্রমাণ করে যে, সঠিক বোধোদয় হলে মানুষ যেকোনো বয়সেই নিজের ভুল সংশোধন করতে পারে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত