দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক আল-ইব্রাহিমি মসজিদের সাহন বা আঙিনার সুরক্ষামূলক ছাতা অপসারণ শুরু করেছে।মঙ্গলবার (২৩ জুন) ফিলিস্তিনি ওয়াকফ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সম্পূর্ণ আঙিনায় স্থায়ী ছাদ নির্মাণ করে মসজিদটিকে একটি ইহুদি সিনাগগে (উপাসনালয়) রূপান্তর করার হীন উদ্দেশ্যে এই আগ্রাসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জায়নবাদী কর্তৃপক্ষ, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
আল-ইব্রাহিমি মসজিদে ইহুদিবাদী আগ্রাসন
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আল-খলিলের (হেব্রন) ঐতিহাসিক আল-ইব্রাহিমি মসজিদে এক নতুন "জায়নবাদী অপরাধের" সূচনা করেছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী। মঙ্গলবার ফিলিস্তিনি ওয়াকফ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মসজিদের উন্মুক্ত আঙিনার প্রতিরক্ষামূলক ছাতাটি জোরপূর্বক অপসারণ করছে। এই অপসারণের মূল লক্ষ্য হলো পুরো আঙিনায় স্থায়ী ছাদ দিয়ে ঢেকে দেওয়া এবং একটি বৃহৎ বসতি স্থাপনকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন করা।
ইসলামি ঐতিহ্য ধ্বংস ও সিনাগগে রূপান্তরের ষড়যন্ত্র
ফিলিস্তিনি ওয়াকফ মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে একটি "নতুন ইহুদিবাদী অপরাধ" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এক কড়া বিবৃতিতে তারা বলেছে, এই পদক্ষেপটি আল-ইব্রাহিমি মসজিদের বিরুদ্ধে এক নগ্ন ও প্রকাশ্য আগ্রাসন। এর মাধ্যমে মসজিদের ঐতিহাসিক, ইসলামি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সম্পূর্ণ মুছে ফেলার চক্রান্ত করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, দখলদাররা মূলত পুরো মসজিদটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ইহুদি সিনাগগে রূপান্তর করার জন্য সুদূরপ্রসারী নীলনকশা নিয়ে এগোচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে দখলদারিত্ব
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, আল-ইব্রাহিমি মসজিদের প্রতিটি ইঞ্চি, এর ভেতরের আঙিনা, বারান্দা, দেয়াল এবং চারপাশের সব চত্বর সম্পূর্ণভাবে এবং একচ্ছত্রভাবে মুসলমানদের ধর্মীয় সম্পদ (ওয়াকফ)। এখানে হস্তক্ষেপ করার বা এর কোনো ঐতিহাসিক কাঠামো পরিবর্তন করার বিন্দুমাত্র অধিকার ইসরায়েলি দখলদারদের নেই। উপাসনালয় এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ধর্মীয় স্থানগুলোর সুরক্ষায় যে আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি রয়েছে, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ তার স্পষ্ট লঙ্ঘন। ওয়াকফ মন্ত্রণালয় জাতিসংঘ, ইউনেস্কো এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে এই অবৈধ প্রকল্প বন্ধে কার্যকর ও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
মুসলিম প্রতিরোধের ডাক
ফিলিস্তিনিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, আল-ইব্রাহিমি মসজিদের ইসলামি পরিচয় রক্ষা করতে এবং দখলদারদের এই ঘৃণ্য চক্রান্ত নস্যাৎ করতে সবাইকে মসজিদে উপস্থিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বেসামরিক প্রশাসনের উচ্চতর পরিকল্পনা কাউন্সিল হেব্রন পৌরসভার কাছ থেকে এই মসজিদের সমস্ত পরিকল্পনা ও সংস্কারের ক্ষমতা জোরপূর্বক কেড়ে নেয়। হেব্রন পৌরসভা বারবার ইসরায়েলিদের এই ছাদ নির্মাণের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তারা এই বেআইনি ডিক্রি জারি করে।
১৯৯৭ সালের হেব্রন চুক্তি (Protocol Concerning the Redeployment in Hebron) অনুযায়ী, আল-ইব্রাহিমি মসজিদের প্রযুক্তিগত ও সেবামূলক দিকগুলো পরিচালনা করার আইনি দায়িত্ব হেব্রন পৌরসভা ও ফিলিস্তিনি ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে থাকা হেব্রনের ওল্ড সিটিতে বর্তমানে প্রায় ১,৫০০ সেনার পাহারায় মাত্র ৪০০ উগ্র ইহুদি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে, যারা প্রতিনিয়ত মুসলমানদের ওপর চড়াও হচ্ছে।
এর আগে, ১৯৯৪ সালে এক উগ্র ইহুদি চরমপন্থীর বর্বর হত্যাকাণ্ডে ২৯ জন ফিলিস্তিনি মুসল্লি সেজদারত অবস্থায় শহীদ হওয়ার পর, ইসরায়েল অন্যায়ভাবে মসজিদটিকে বিভক্ত করে এর ৬৩ শতাংশ ইহুদিদের এবং মাত্র ৩৭ শতাংশ মুসলমানদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল। এবার তারা পুরো মসজিদটিকেই গ্রাস করার চূড়ান্ত ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।
বিষয় : ফিলিস্তিন ইব্রাহিমি মসজিদ

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক আল-ইব্রাহিমি মসজিদের সাহন বা আঙিনার সুরক্ষামূলক ছাতা অপসারণ শুরু করেছে।মঙ্গলবার (২৩ জুন) ফিলিস্তিনি ওয়াকফ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সম্পূর্ণ আঙিনায় স্থায়ী ছাদ নির্মাণ করে মসজিদটিকে একটি ইহুদি সিনাগগে (উপাসনালয়) রূপান্তর করার হীন উদ্দেশ্যে এই আগ্রাসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জায়নবাদী কর্তৃপক্ষ, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
আল-ইব্রাহিমি মসজিদে ইহুদিবাদী আগ্রাসন
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আল-খলিলের (হেব্রন) ঐতিহাসিক আল-ইব্রাহিমি মসজিদে এক নতুন "জায়নবাদী অপরাধের" সূচনা করেছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী। মঙ্গলবার ফিলিস্তিনি ওয়াকফ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী মসজিদের উন্মুক্ত আঙিনার প্রতিরক্ষামূলক ছাতাটি জোরপূর্বক অপসারণ করছে। এই অপসারণের মূল লক্ষ্য হলো পুরো আঙিনায় স্থায়ী ছাদ দিয়ে ঢেকে দেওয়া এবং একটি বৃহৎ বসতি স্থাপনকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন করা।
ইসলামি ঐতিহ্য ধ্বংস ও সিনাগগে রূপান্তরের ষড়যন্ত্র
ফিলিস্তিনি ওয়াকফ মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে একটি "নতুন ইহুদিবাদী অপরাধ" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এক কড়া বিবৃতিতে তারা বলেছে, এই পদক্ষেপটি আল-ইব্রাহিমি মসজিদের বিরুদ্ধে এক নগ্ন ও প্রকাশ্য আগ্রাসন। এর মাধ্যমে মসজিদের ঐতিহাসিক, ইসলামি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সম্পূর্ণ মুছে ফেলার চক্রান্ত করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, দখলদাররা মূলত পুরো মসজিদটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ইহুদি সিনাগগে রূপান্তর করার জন্য সুদূরপ্রসারী নীলনকশা নিয়ে এগোচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে দখলদারিত্ব
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, আল-ইব্রাহিমি মসজিদের প্রতিটি ইঞ্চি, এর ভেতরের আঙিনা, বারান্দা, দেয়াল এবং চারপাশের সব চত্বর সম্পূর্ণভাবে এবং একচ্ছত্রভাবে মুসলমানদের ধর্মীয় সম্পদ (ওয়াকফ)। এখানে হস্তক্ষেপ করার বা এর কোনো ঐতিহাসিক কাঠামো পরিবর্তন করার বিন্দুমাত্র অধিকার ইসরায়েলি দখলদারদের নেই। উপাসনালয় এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ধর্মীয় স্থানগুলোর সুরক্ষায় যে আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি রয়েছে, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ তার স্পষ্ট লঙ্ঘন। ওয়াকফ মন্ত্রণালয় জাতিসংঘ, ইউনেস্কো এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে এই অবৈধ প্রকল্প বন্ধে কার্যকর ও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
মুসলিম প্রতিরোধের ডাক
ফিলিস্তিনিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রণালয় বলেছে, আল-ইব্রাহিমি মসজিদের ইসলামি পরিচয় রক্ষা করতে এবং দখলদারদের এই ঘৃণ্য চক্রান্ত নস্যাৎ করতে সবাইকে মসজিদে উপস্থিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বেসামরিক প্রশাসনের উচ্চতর পরিকল্পনা কাউন্সিল হেব্রন পৌরসভার কাছ থেকে এই মসজিদের সমস্ত পরিকল্পনা ও সংস্কারের ক্ষমতা জোরপূর্বক কেড়ে নেয়। হেব্রন পৌরসভা বারবার ইসরায়েলিদের এই ছাদ নির্মাণের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তারা এই বেআইনি ডিক্রি জারি করে।
১৯৯৭ সালের হেব্রন চুক্তি (Protocol Concerning the Redeployment in Hebron) অনুযায়ী, আল-ইব্রাহিমি মসজিদের প্রযুক্তিগত ও সেবামূলক দিকগুলো পরিচালনা করার আইনি দায়িত্ব হেব্রন পৌরসভা ও ফিলিস্তিনি ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে থাকা হেব্রনের ওল্ড সিটিতে বর্তমানে প্রায় ১,৫০০ সেনার পাহারায় মাত্র ৪০০ উগ্র ইহুদি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে, যারা প্রতিনিয়ত মুসলমানদের ওপর চড়াও হচ্ছে।
এর আগে, ১৯৯৪ সালে এক উগ্র ইহুদি চরমপন্থীর বর্বর হত্যাকাণ্ডে ২৯ জন ফিলিস্তিনি মুসল্লি সেজদারত অবস্থায় শহীদ হওয়ার পর, ইসরায়েল অন্যায়ভাবে মসজিদটিকে বিভক্ত করে এর ৬৩ শতাংশ ইহুদিদের এবং মাত্র ৩৭ শতাংশ মুসলমানদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল। এবার তারা পুরো মসজিদটিকেই গ্রাস করার চূড়ান্ত ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন