তুরস্কের ইস্তাম্বুলে স্বামীর ইন্তেকালের পর গভীর বিষাদ ও শারীরিক অসুস্থতা কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন ৬০ বছর বয়সী সেভিম কোপুজ। তিন সন্তানের জননী এই নারী শৈশবের হাতের কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবং সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে এখন আত্মনির্ভরশীল। ইস্তাম্বুলের বায়রামপাশা প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রের সহযোগিতায় বিষাদগ্রস্ততা জয় করে তিনি আজ বিশ্বজুড়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া অসংখ্য নারীর জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ও প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন।
জীবনের কঠিন পরীক্ষা ও স্বজন হারানোর গভীর বেদনা মানুষকে কতখানি ভেঙে ফেলতে পারে, আবার ঈমানী দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস মানুষকে কীভাবে পুনর্জীবিত করতে পারে—তার এক জীবন্ত উদাহরণ তুর্কি নারী সেভিম কোপুজ।
১০ বছর আগে স্বামীকে হারানোর পর তীব্র মানসিক কষ্টে ঘরবন্দী হয়ে পড়েছিলেন সেভিম। প্রিয়জনের বিচ্ছেদ সহ্য করতে না পেরে তিনি মারাত্মক মানসিক চাপে ভোগেন, যার প্রভাব পড়েছিল তার শারীরেও। দুঃশ্চিন্তার কারণে তার দু'হাতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। চর্মরোগ ভেবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন তিনি। কিন্তু বায়রামপাশা প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রে যোগ দেওয়ার পর ধীরে ধীরে তার জীবনে পরিবর্তন আসতে শুরু করে।
সেভিম কোপুজ বলেন, "১০ বছর আগে আমার স্বামী ইন্তেকাল করেন। তিনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন, তাই আজও তার শূন্যতা মেনে নিতে পারি না। স্বামীর মৃত্যুর পর আমি গৃহবন্দী হয়ে পড়েছিলাম। তবে পুনর্বাসন কেন্দ্রে কাজ শুরুর পর আমার হাতের সেই মানসিক দুশ্চিন্তাজনিত ক্ষতগুলো অলৌকিকভাবে দূর হয়ে যায়। এখানে এসে আমি আবার মানসিকভাবে সুস্থ অনুভব করি।"
তিনি আরও জানান, কেবল তিনি নিজেই নন, তার ছোট ছেলেও এই কঠিন সময়ে পুনর্বাসন কেন্দ্রের সেবার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে। কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি একটি পরিবারের উষ্ণতা খুঁজে পান।
শৈশব থেকেই হস্তশিল্পের প্রতি অনুরাগ ছিল সেভিমের। বিশেষ করে তরুণীদের বিয়ের জন্য ঐতিহ্যবাহী রেশমি ও হাতে তৈরি সামগ্রী (Ceyiz) তৈরিতে তিনি সিদ্ধহস্ত। মেয়ের পরামর্শে সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্ট খুলে তিনি নিজের কাজ প্রদর্শন ও বিক্রি শুরু করেন। শুরুতে বিষয়টি স্রেফ একটি শখ ও মানসিক ব্যস্ততা থাকলেও, সময়ের সাথে সাথে এটি তার ব্যবসায়িক সফলতার মাধ্যম হয়ে ওঠে।
সামাজিক মাধ্যমে কাজ করতে গিয়ে মিশ্র অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। ইতিবাচক সাড়ার পাশাপাশি নেতিবাচক মন্তব্য এলেও তিনি কখনো দমে যাননি। সেভিম বলেন, "অনলাইনে সব ধরনের মানুষ থাকে। যারা অহেতুক কটু কথা বলে, তাদের ব্লক করে দিই। নিজের সম্মান বজায় রেখে সন্তানদের জন্য শক্ত হয়ে থাকার চেষ্টা করছি।"
নিজের এই ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতায় তিনি আল্লাহর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অন্যান্য নারী ও সংগ্রামরত বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "মানুষের উচিত আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া, সর্বাবস্থায় 'আলহামদুলিল্লাহ' বলা। চেষ্টা করলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। আমি একদম শূন্য থেকে শুরু করেছিলাম। আল্লাহর অশেষ কৃপায় আজ আমার কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। মূল কথা হলো—মানুষকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, কখনো আশা হারানো যাবে না।"
বিষয় : তুরস্ক

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে স্বামীর ইন্তেকালের পর গভীর বিষাদ ও শারীরিক অসুস্থতা কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন ৬০ বছর বয়সী সেভিম কোপুজ। তিন সন্তানের জননী এই নারী শৈশবের হাতের কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবং সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে এখন আত্মনির্ভরশীল। ইস্তাম্বুলের বায়রামপাশা প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রের সহযোগিতায় বিষাদগ্রস্ততা জয় করে তিনি আজ বিশ্বজুড়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া অসংখ্য নারীর জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ও প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন।
জীবনের কঠিন পরীক্ষা ও স্বজন হারানোর গভীর বেদনা মানুষকে কতখানি ভেঙে ফেলতে পারে, আবার ঈমানী দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস মানুষকে কীভাবে পুনর্জীবিত করতে পারে—তার এক জীবন্ত উদাহরণ তুর্কি নারী সেভিম কোপুজ।
১০ বছর আগে স্বামীকে হারানোর পর তীব্র মানসিক কষ্টে ঘরবন্দী হয়ে পড়েছিলেন সেভিম। প্রিয়জনের বিচ্ছেদ সহ্য করতে না পেরে তিনি মারাত্মক মানসিক চাপে ভোগেন, যার প্রভাব পড়েছিল তার শারীরেও। দুঃশ্চিন্তার কারণে তার দু'হাতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। চর্মরোগ ভেবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন তিনি। কিন্তু বায়রামপাশা প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রে যোগ দেওয়ার পর ধীরে ধীরে তার জীবনে পরিবর্তন আসতে শুরু করে।
সেভিম কোপুজ বলেন, "১০ বছর আগে আমার স্বামী ইন্তেকাল করেন। তিনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন, তাই আজও তার শূন্যতা মেনে নিতে পারি না। স্বামীর মৃত্যুর পর আমি গৃহবন্দী হয়ে পড়েছিলাম। তবে পুনর্বাসন কেন্দ্রে কাজ শুরুর পর আমার হাতের সেই মানসিক দুশ্চিন্তাজনিত ক্ষতগুলো অলৌকিকভাবে দূর হয়ে যায়। এখানে এসে আমি আবার মানসিকভাবে সুস্থ অনুভব করি।"
তিনি আরও জানান, কেবল তিনি নিজেই নন, তার ছোট ছেলেও এই কঠিন সময়ে পুনর্বাসন কেন্দ্রের সেবার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে। কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি একটি পরিবারের উষ্ণতা খুঁজে পান।
শৈশব থেকেই হস্তশিল্পের প্রতি অনুরাগ ছিল সেভিমের। বিশেষ করে তরুণীদের বিয়ের জন্য ঐতিহ্যবাহী রেশমি ও হাতে তৈরি সামগ্রী (Ceyiz) তৈরিতে তিনি সিদ্ধহস্ত। মেয়ের পরামর্শে সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্ট খুলে তিনি নিজের কাজ প্রদর্শন ও বিক্রি শুরু করেন। শুরুতে বিষয়টি স্রেফ একটি শখ ও মানসিক ব্যস্ততা থাকলেও, সময়ের সাথে সাথে এটি তার ব্যবসায়িক সফলতার মাধ্যম হয়ে ওঠে।
সামাজিক মাধ্যমে কাজ করতে গিয়ে মিশ্র অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। ইতিবাচক সাড়ার পাশাপাশি নেতিবাচক মন্তব্য এলেও তিনি কখনো দমে যাননি। সেভিম বলেন, "অনলাইনে সব ধরনের মানুষ থাকে। যারা অহেতুক কটু কথা বলে, তাদের ব্লক করে দিই। নিজের সম্মান বজায় রেখে সন্তানদের জন্য শক্ত হয়ে থাকার চেষ্টা করছি।"
নিজের এই ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতায় তিনি আল্লাহর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অন্যান্য নারী ও সংগ্রামরত বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "মানুষের উচিত আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া, সর্বাবস্থায় 'আলহামদুলিল্লাহ' বলা। চেষ্টা করলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। আমি একদম শূন্য থেকে শুরু করেছিলাম। আল্লাহর অশেষ কৃপায় আজ আমার কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। মূল কথা হলো—মানুষকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, কখনো আশা হারানো যাবে না।"

আপনার মতামত লিখুন