শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

চেহলামের প্রবীণ মুসলিম নাগরিকের হাত ধরে শ্রদ্ধা জানানোর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের বিক্ষোভ; আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দোহাই দিয়ে বদলি করল প্রশাসন।

উত্তরপ্রদেশে মুসলিম প্রবীণকে সম্মানের ‘অপরাধে’ বদলি হলেন পুলিশ আধিকারিক



উত্তরপ্রদেশে মুসলিম প্রবীণকে সম্মানের ‘অপরাধে’ বদলি হলেন পুলিশ আধিকারিক

ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাম্বল শহরে এক প্রবীণ মুসলিম নাগরিকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন সিটি ইন্সপেক্টর সুধীর পানওয়ার。 চেহলামের মিছিলে প্রবীণ এক মুরুব্বির হাত ধরে সম্মান প্রদর্শন এবং আশীর্বাদ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভের মুখে তাকে তড়িঘড়ি স্থানান্তরিত করেছে পুলিশ প্রশাসন। বিষয়টিকে 'প্রশাসনিক কারণ' হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হলেও, চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর সাম্প্রদায়িক চাপের মুখে নতিস্বীকারের স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবেই একে দেখছেন মানবাধিকার কর্মী ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাম্বল শহরে একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রা চলাকালে এক প্রবীণ মুসলিম নাগরিককে সম্মান জানানোর দায়ে স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করার ঘটনা ঘটেছিল। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সিটি ইন্সপেক্টর সুধীর পানওয়ার ধর্মীয় কারবালার শোকাবহ চেহলাম মিছিলে একজন প্রবীণ মুসলিম ব্যক্তির প্রতি পরম শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। ভারতের চিরাচরিত সামাজিক সৌজন্য ও বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মানের এক বিরল ও মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও, উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর তীব্র আপত্তির মুখে পড়তে হয় ওই কর্মকর্তাকে।

ঘটনাটি ঘটে সাম্বল শহরের চেহলাম মিছিলে। শিয়া মুসলিম সম্প্রদায় আশুরার ৪০তম দিনে কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসেন (রা.)-এর শাহাদাতকে স্মরণ করে এই চেহলাম পালন করে থাকে। উক্ত অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা ডিউটিতে নিয়োজিত পুলিশ ইন্সপেক্টর সুধীর পানওয়ারকে এক প্রবীণ মুসলিম ব্যক্তির পাশে বসে থাকতে এবং তার হাত ধরে পরম বিনয় প্রদর্শন করতে দেখা যায়। নেটিজেন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি প্রবীণ লোকটির চরণ স্পর্শ করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছিলেন।

ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের কর্মীরা মাঠে নেমে পড়ে। তারা অভিযোগ তোলে যে, ইন্সপেক্টর তাদের কর্মীদের সাথে আগে খারাপ ব্যবহার করেছিলেন। এরপর তারা শঙ্কর কলেজ মোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে, সংসদ সদস্য পাপ্পু যাদবের কুশপুত্তলিকা দাহ করে এবং থানার সামনে অবস্থান নিয়ে ‘হনুমান চালিসা’ পাঠ করে ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।

হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থীদের এই সাম্প্রদায়িক বিক্ষোভের মুখে সাম্বল জেলা পুলিশ প্রশাসন নতিস্বীকার করে এবং ইন্সপেক্টর সুধীর পানওয়ারকে তড়িঘড়ি করে আসমোলি থানায় বদলি করে দেয়। তার স্থলাভিষিক্ত করা হয় মোহিত চৌধুরীকে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে একটি 'সাধারণ প্রশাসনিক রুটিন বদলি' এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ বলে দাবি করা হয়েছে, তবে সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে—উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের তুষ্ট করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিককে ধর্মীয় পরিচয়ের উর্ধ্বে উঠে সম্মান জানানো যেখানে যেকোনো সভ্য সমাজের কাম্য, সেখানে ভারতে বিদ্যমান হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে সাধারণ একটি মানবিক আচরণকেও কীভাবে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে হেনস্তা করা হয়, সাম্বলের এই ঘটনা তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬


উত্তরপ্রদেশে মুসলিম প্রবীণকে সম্মানের ‘অপরাধে’ বদলি হলেন পুলিশ আধিকারিক

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাম্বল শহরে এক প্রবীণ মুসলিম নাগরিকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন সিটি ইন্সপেক্টর সুধীর পানওয়ার。 চেহলামের মিছিলে প্রবীণ এক মুরুব্বির হাত ধরে সম্মান প্রদর্শন এবং আশীর্বাদ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভের মুখে তাকে তড়িঘড়ি স্থানান্তরিত করেছে পুলিশ প্রশাসন। বিষয়টিকে 'প্রশাসনিক কারণ' হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হলেও, চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোর সাম্প্রদায়িক চাপের মুখে নতিস্বীকারের স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবেই একে দেখছেন মানবাধিকার কর্মী ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাম্বল শহরে একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রা চলাকালে এক প্রবীণ মুসলিম নাগরিককে সম্মান জানানোর দায়ে স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করার ঘটনা ঘটেছিল। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সিটি ইন্সপেক্টর সুধীর পানওয়ার ধর্মীয় কারবালার শোকাবহ চেহলাম মিছিলে একজন প্রবীণ মুসলিম ব্যক্তির প্রতি পরম শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। ভারতের চিরাচরিত সামাজিক সৌজন্য ও বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মানের এক বিরল ও মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও, উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর তীব্র আপত্তির মুখে পড়তে হয় ওই কর্মকর্তাকে।

ঘটনাটি ঘটে সাম্বল শহরের চেহলাম মিছিলে। শিয়া মুসলিম সম্প্রদায় আশুরার ৪০তম দিনে কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসেন (রা.)-এর শাহাদাতকে স্মরণ করে এই চেহলাম পালন করে থাকে। উক্ত অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা ডিউটিতে নিয়োজিত পুলিশ ইন্সপেক্টর সুধীর পানওয়ারকে এক প্রবীণ মুসলিম ব্যক্তির পাশে বসে থাকতে এবং তার হাত ধরে পরম বিনয় প্রদর্শন করতে দেখা যায়। নেটিজেন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি প্রবীণ লোকটির চরণ স্পর্শ করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছিলেন।

ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের কর্মীরা মাঠে নেমে পড়ে। তারা অভিযোগ তোলে যে, ইন্সপেক্টর তাদের কর্মীদের সাথে আগে খারাপ ব্যবহার করেছিলেন। এরপর তারা শঙ্কর কলেজ মোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে, সংসদ সদস্য পাপ্পু যাদবের কুশপুত্তলিকা দাহ করে এবং থানার সামনে অবস্থান নিয়ে ‘হনুমান চালিসা’ পাঠ করে ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।

হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থীদের এই সাম্প্রদায়িক বিক্ষোভের মুখে সাম্বল জেলা পুলিশ প্রশাসন নতিস্বীকার করে এবং ইন্সপেক্টর সুধীর পানওয়ারকে তড়িঘড়ি করে আসমোলি থানায় বদলি করে দেয়। তার স্থলাভিষিক্ত করা হয় মোহিত চৌধুরীকে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে একটি 'সাধারণ প্রশাসনিক রুটিন বদলি' এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ বলে দাবি করা হয়েছে, তবে সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে—উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের তুষ্ট করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিককে ধর্মীয় পরিচয়ের উর্ধ্বে উঠে সম্মান জানানো যেখানে যেকোনো সভ্য সমাজের কাম্য, সেখানে ভারতে বিদ্যমান হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে সাধারণ একটি মানবিক আচরণকেও কীভাবে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে হেনস্তা করা হয়, সাম্বলের এই ঘটনা তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ