আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমশ একঘরে হয়ে পড়া ইসরায়েল পশ্চিমে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে পরিকল্পিতভাবে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামবিদ্বেষকে চরম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর কর্মকর্তা জশ পলের এক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কীভাবে নেতানিয়াহু সরকার পশ্চিমা কট্টর ডানপন্থী দলগুলোকে সংগঠিত করে মুসলিমবিরোধী ঘৃণা ছড়াচ্ছে। গাজা উপত্যকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঢাকা দিতে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এড়াতে তারা ইউরোপ ও আমেরিকার সমাজে 'উগ্র ইসলাম'-এর ভয় দেখাচ্ছে।
গাজায় নির্বিচার আগ্রাসন এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান নির্মমতার কারণে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি আজ চরম সংকটে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের অপরাধ ঢাকতে এবং পশ্চিমা বিশ্বে রাজনৈতিক সমর্থন বজায় রাখতে চরমপন্থী কৌশল হিসেবে ‘ইসলামোফোবিয়া’ বা ইসলামবিদ্বেষকে হাতিয়ার করেছে নেতানিয়াহু সরকার। মার্কিন বাইডেন ও ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নীতি ও বৈশ্বিক কূটনীতির ওপর নজর রাখা বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী দলগুলোর মধ্যে মুসলিমবিরোধী আতঙ্ক উসকে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের নতুন গঠিত "শরিয়া-মুক্ত আমেরিকা ককাস"-এর মতো উদ্যোগগুলো এর জলন্ত উদাহরণ। যেখানে মুসলিম সম্প্রদায়কে একটি 'সহিংস ধর্ম' হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নাইন-ইলেভেনের পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশও যেখানে "ইসলাম শান্তির ধর্ম" বলে মন্তব্য করেছিলেন, সেখানে বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তা পুরোপুরি উধাও হয়ে চরম উগ্রপন্থা স্থান করে নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরে অজুখানা নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ থেকে শুরু করে ক্যালিফোর্নিয়ার ইসলামিক সেন্টারে হামলা—সবই এই ক্রমবর্ধমান ঘৃণারই বহিঃপ্রকাশ।
গত জানুয়ারিতে জেরুজালেমে আয়োজিত অ্যান্টি-সেমিটিজম সম্মেলনে ইউরোপের কট্টর ডানপন্থী দলগুলো—যেমন ফ্রান্সেস ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি, স্পেনের ভক্স এবং পোল্যান্ডের পিআইএস-এর মতো উগ্র জাতীয়তাবাদী নেতাদের আমন্ত্রণ জানায় ইসরায়েল। সেখানে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু খোলাখুলি দাবি করেন, তারা নাকি "উগ্র ইসলামের আগ্রাসনের" বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। এমনকি যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তনকে কটাক্ষ করে তিনি সেটিকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে মন্তব্য করতেও দ্বিধা করেননি।
শুধু বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ নয়, ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন জনসংযোগ ফার্মের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে যে পশ্চিমা দেশে মুসলিম অভিবাসীরা নাকি এক বড় হুমকি। কানাডায় পরিচালিত ‘ইউনাইটেড সিটিজেনস ফর কানাডা’র মতো ছদ্মবেশী অনলাইন প্রচারণায় এর প্রমাণ মিলেছে। ইসরায়েলি সমাজের বর্ণবাদী ও ইহুদি আধিপত্যবাদী মডেলটিকে পশ্চিমের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার এবং পশ্চিমা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করার এই অপচেষ্টা মূলত এক দেউলিয়া ও বিচ্ছিন্ন হতে থাকা রাষ্ট্রের মরিয়া প্রয়াস।
বিষয় : ইসলামোফোবিয়া

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমশ একঘরে হয়ে পড়া ইসরায়েল পশ্চিমে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে পরিকল্পিতভাবে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামবিদ্বেষকে চরম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর কর্মকর্তা জশ পলের এক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কীভাবে নেতানিয়াহু সরকার পশ্চিমা কট্টর ডানপন্থী দলগুলোকে সংগঠিত করে মুসলিমবিরোধী ঘৃণা ছড়াচ্ছে। গাজা উপত্যকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঢাকা দিতে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এড়াতে তারা ইউরোপ ও আমেরিকার সমাজে 'উগ্র ইসলাম'-এর ভয় দেখাচ্ছে।
গাজায় নির্বিচার আগ্রাসন এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান নির্মমতার কারণে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি আজ চরম সংকটে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের অপরাধ ঢাকতে এবং পশ্চিমা বিশ্বে রাজনৈতিক সমর্থন বজায় রাখতে চরমপন্থী কৌশল হিসেবে ‘ইসলামোফোবিয়া’ বা ইসলামবিদ্বেষকে হাতিয়ার করেছে নেতানিয়াহু সরকার। মার্কিন বাইডেন ও ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নীতি ও বৈশ্বিক কূটনীতির ওপর নজর রাখা বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী দলগুলোর মধ্যে মুসলিমবিরোধী আতঙ্ক উসকে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের নতুন গঠিত "শরিয়া-মুক্ত আমেরিকা ককাস"-এর মতো উদ্যোগগুলো এর জলন্ত উদাহরণ। যেখানে মুসলিম সম্প্রদায়কে একটি 'সহিংস ধর্ম' হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নাইন-ইলেভেনের পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশও যেখানে "ইসলাম শান্তির ধর্ম" বলে মন্তব্য করেছিলেন, সেখানে বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তা পুরোপুরি উধাও হয়ে চরম উগ্রপন্থা স্থান করে নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরে অজুখানা নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ থেকে শুরু করে ক্যালিফোর্নিয়ার ইসলামিক সেন্টারে হামলা—সবই এই ক্রমবর্ধমান ঘৃণারই বহিঃপ্রকাশ।
গত জানুয়ারিতে জেরুজালেমে আয়োজিত অ্যান্টি-সেমিটিজম সম্মেলনে ইউরোপের কট্টর ডানপন্থী দলগুলো—যেমন ফ্রান্সেস ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি, স্পেনের ভক্স এবং পোল্যান্ডের পিআইএস-এর মতো উগ্র জাতীয়তাবাদী নেতাদের আমন্ত্রণ জানায় ইসরায়েল। সেখানে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু খোলাখুলি দাবি করেন, তারা নাকি "উগ্র ইসলামের আগ্রাসনের" বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। এমনকি যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তনকে কটাক্ষ করে তিনি সেটিকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে মন্তব্য করতেও দ্বিধা করেননি।
শুধু বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ নয়, ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন জনসংযোগ ফার্মের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে যে পশ্চিমা দেশে মুসলিম অভিবাসীরা নাকি এক বড় হুমকি। কানাডায় পরিচালিত ‘ইউনাইটেড সিটিজেনস ফর কানাডা’র মতো ছদ্মবেশী অনলাইন প্রচারণায় এর প্রমাণ মিলেছে। ইসরায়েলি সমাজের বর্ণবাদী ও ইহুদি আধিপত্যবাদী মডেলটিকে পশ্চিমের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার এবং পশ্চিমা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করার এই অপচেষ্টা মূলত এক দেউলিয়া ও বিচ্ছিন্ন হতে থাকা রাষ্ট্রের মরিয়া প্রয়াস।

আপনার মতামত লিখুন