বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
কওমী টাইমস

আধার কার্ড হাতে ভারতের নাগরিক, তবুও কপালে জুটল ‘বাংলাদেশি’ তকমা! ওড়িশায় মুসলিম ফেরিওয়ালাকে ঘিরে ধরে জোরপূর্বক ‘জয় শ্রী রাম’ বলালো উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা

ওড়িশায় মুসলিম ফেরিওয়ালাকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা, জোরপূর্বক ‘জয় শ্রী রাম’ বলিয়ে হেনস্তা



ওড়িশায় মুসলিম ফেরিওয়ালাকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা, জোরপূর্বক ‘জয় শ্রী রাম’ বলিয়ে হেনস্তা

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের কেন্দ্রাপাড়া জেলায় এক মুসলিম ফেরিওয়ালাকে 'বাংলাদেশি' আখ্যা দিয়ে চরম হেনস্তা ও জোরপূর্বক ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বজরং দলের এক কর্মী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রকাশ্য রাস্তায় ওই মুসলিম ব্যবসায়ীকে ঘিরে ধরে তার ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য আধার কার্ড তল্লাশি করা হচ্ছে এবং ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর চড়াও হওয়ার ঘটনা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার কেন্দ্রাপাড়া জেলায়, যেখানে একজন সাধারণ মুসলিম ফেরিওয়ালা তার মোটরসাইকেলে করে পণ্য বিক্রি করার সময় বজরং দলের উগ্রপন্থীদের বাধার মুখে পড়েন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাহুল মণ্ডল নামে এক বজরং দল কর্মী এবং তার ৩-৪ জন সহযোগী ওই মুসলিম ফেরিওয়ালাকে চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তারা শুরুতেই তাকে 'বাংলাদেশি' বলে কটূক্তি করে এবং তার ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে উগ্রপন্থীরা তাকে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেওয়ার জন্য প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।

নির্যাতনের শিকার ফেরিওয়ালা অত্যন্ত শান্তভাবে তাদের এই অন্যায় আচরণ বন্ধ করার অনুরোধ জানান এবং শুরুতে স্লোগান দিতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন। কিন্তু উগ্রপন্থীদের একজন ধমকের সুরে বলতে থাকে, "জয় শ্রী রাম বল, বলতেই হবে।" দীর্ঘক্ষণ মানসিক চাপ ও ভীতি প্রদর্শনের পর, নিরুপায় হয়ে ওই ফেরিওয়ালা মৃদুস্বরে স্লোগানটি উচ্চারণ করেন।

কিন্তু এতেও ক্ষান্ত হয়নি বজরং দলের কর্মীরা। স্লোগান দেওয়ার পরও তাকে ছেড়ে না দিয়ে তার ধর্ম এবং পোশাক নিয়ে উপহাস করা হতে থাকে। ভিডিওর এক অংশে দেখা যায়, উগ্রপন্থীদের একজন ওই ফেরিওয়ালার পকেট থেকে জোর করে আধার কার্ড কেড়ে নিয়ে তা পরীক্ষা করছে, যেন সে আসলেই ভারতের বৈধ নাগরিক কি না তা যাচাই করার আইনগত অধিকার তাদের রয়েছে। বারবার হেনস্তা করার পর এবং আধার কার্ড দেখার পরও তারা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে ও ক্রমাগত ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।

হায়দরাবাদেও একই চিত্র: মুসলিম দম্পতিকে 'পাকিস্তানি' আখ্যা

ওড়িশার এই ঘটনার সমসাময়িক সময়ে ভারতের হায়দরাবাদ থেকেও অনুরূপ একটি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সামনে এসেছে। হায়দরাবাদের উপকণ্ঠে একটি আবাসন সোসাইটিতে এক মুসলিম দম্পতিকে 'পাকিস্তানি' বলে গালাগাল করেছে আবাসন কমিটির সদস্যরা।

একটি ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া নিবন্ধন সংক্রান্ত সাধারণ বিবাদের জেরে সোসাইটির সেক্রেটারি ওই মুসলিম বাসিন্দাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আমি তো শুধু জিজ্ঞেস করছি আপনি পাকিস্তানি কি না; আপনি এখানে কেন থাকছেন?" শুধু তাই নয়, ওই মুসলিম দম্পতি অভিযোগ করেছেন যে, সেক্রেটারি তাদের ‘বোমা হামলা চালাতে ভারতে এসেছে’ বলেও বর্ণবাদী ও উগ্র মন্তব্য করেন।

এর জবাবে নির্যাতিত ভারতীয় মুসলিম নাগরিক ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, "আমার দাদা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সুবেদার হিসেবে দেশের সেবা করেছেন। আমাদের পাকিস্তানি বলার সাহস কীভাবে হয়?"

মানবাধিকার সংগঠনগুলো ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিমদের এভাবে সুপরিকল্পিতভাবে 'বাংলাদেশি' বা 'পাকিস্তানি' তকমা দিয়ে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে কোণঠাসা করার এই উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রবণতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬


ওড়িশায় মুসলিম ফেরিওয়ালাকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা, জোরপূর্বক ‘জয় শ্রী রাম’ বলিয়ে হেনস্তা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

ভারতের ওড়িশা রাজ্যের কেন্দ্রাপাড়া জেলায় এক মুসলিম ফেরিওয়ালাকে 'বাংলাদেশি' আখ্যা দিয়ে চরম হেনস্তা ও জোরপূর্বক ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী বজরং দলের এক কর্মী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রকাশ্য রাস্তায় ওই মুসলিম ব্যবসায়ীকে ঘিরে ধরে তার ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য আধার কার্ড তল্লাশি করা হচ্ছে এবং ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর চড়াও হওয়ার ঘটনা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার কেন্দ্রাপাড়া জেলায়, যেখানে একজন সাধারণ মুসলিম ফেরিওয়ালা তার মোটরসাইকেলে করে পণ্য বিক্রি করার সময় বজরং দলের উগ্রপন্থীদের বাধার মুখে পড়েন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাহুল মণ্ডল নামে এক বজরং দল কর্মী এবং তার ৩-৪ জন সহযোগী ওই মুসলিম ফেরিওয়ালাকে চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তারা শুরুতেই তাকে 'বাংলাদেশি' বলে কটূক্তি করে এবং তার ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে উগ্রপন্থীরা তাকে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেওয়ার জন্য প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।

নির্যাতনের শিকার ফেরিওয়ালা অত্যন্ত শান্তভাবে তাদের এই অন্যায় আচরণ বন্ধ করার অনুরোধ জানান এবং শুরুতে স্লোগান দিতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন। কিন্তু উগ্রপন্থীদের একজন ধমকের সুরে বলতে থাকে, "জয় শ্রী রাম বল, বলতেই হবে।" দীর্ঘক্ষণ মানসিক চাপ ও ভীতি প্রদর্শনের পর, নিরুপায় হয়ে ওই ফেরিওয়ালা মৃদুস্বরে স্লোগানটি উচ্চারণ করেন।

কিন্তু এতেও ক্ষান্ত হয়নি বজরং দলের কর্মীরা। স্লোগান দেওয়ার পরও তাকে ছেড়ে না দিয়ে তার ধর্ম এবং পোশাক নিয়ে উপহাস করা হতে থাকে। ভিডিওর এক অংশে দেখা যায়, উগ্রপন্থীদের একজন ওই ফেরিওয়ালার পকেট থেকে জোর করে আধার কার্ড কেড়ে নিয়ে তা পরীক্ষা করছে, যেন সে আসলেই ভারতের বৈধ নাগরিক কি না তা যাচাই করার আইনগত অধিকার তাদের রয়েছে। বারবার হেনস্তা করার পর এবং আধার কার্ড দেখার পরও তারা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে ও ক্রমাগত ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।

হায়দরাবাদেও একই চিত্র: মুসলিম দম্পতিকে 'পাকিস্তানি' আখ্যা

ওড়িশার এই ঘটনার সমসাময়িক সময়ে ভারতের হায়দরাবাদ থেকেও অনুরূপ একটি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সামনে এসেছে। হায়দরাবাদের উপকণ্ঠে একটি আবাসন সোসাইটিতে এক মুসলিম দম্পতিকে 'পাকিস্তানি' বলে গালাগাল করেছে আবাসন কমিটির সদস্যরা।

একটি ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া নিবন্ধন সংক্রান্ত সাধারণ বিবাদের জেরে সোসাইটির সেক্রেটারি ওই মুসলিম বাসিন্দাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আমি তো শুধু জিজ্ঞেস করছি আপনি পাকিস্তানি কি না; আপনি এখানে কেন থাকছেন?" শুধু তাই নয়, ওই মুসলিম দম্পতি অভিযোগ করেছেন যে, সেক্রেটারি তাদের ‘বোমা হামলা চালাতে ভারতে এসেছে’ বলেও বর্ণবাদী ও উগ্র মন্তব্য করেন।

এর জবাবে নির্যাতিত ভারতীয় মুসলিম নাগরিক ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, "আমার দাদা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সুবেদার হিসেবে দেশের সেবা করেছেন। আমাদের পাকিস্তানি বলার সাহস কীভাবে হয়?"

মানবাধিকার সংগঠনগুলো ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিমদের এভাবে সুপরিকল্পিতভাবে 'বাংলাদেশি' বা 'পাকিস্তানি' তকমা দিয়ে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে কোণঠাসা করার এই উগ্র হিন্দুত্ববাদী প্রবণতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ