বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

আসাদ-পরবর্তী নতুন সিরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তির ওপর গড়ে তুলতে অ্যাকাডেমি, কলেজ ও কারিগরি ইনস্টিটিউট নিয়ে গঠিত হচ্ছে এই উচ্চতর সামরিক বিশ্ববিদ্যালয়

দামেস্কে ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ প্রেসিডেন্ট আল-শরা’র



দামেস্কে ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ প্রেসিডেন্ট আল-শরা’র

সিরিয়ার সামরিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানী দামেস্কে একটি বিশেষায়িত সামরিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শরা। গত রবিবার (৫ জুলাই) তিনি এই সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক ডিক্রি বা প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি জারি করেন। ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়’ নামের এই উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সিরিয়ার নতুন সামরিক ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আসাদ স্বৈরশাসনের পতনের পর নতুন সিরিয়া বিনির্মাণ ও সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নে বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শরা। রবিবার (৫ জুলাই) তিনি দেশে সামরিক বিজ্ঞানে বিশেষায়িত একটি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি জারি করেছেন। নতুন এই প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে "জাতীয় প্রতিরক্ষা বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়"।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'সানা' (SANA) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আল-শরা ২০২৬ সালের ১৪৭ নম্বর ডিক্রি জারি করেছেন, যার অধীনে এই বিশেষায়িত সামরিক বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে উঠবে। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান কার্যালয় ও ক্যাম্পাস থাকবে রাজধানী দামেস্কে। আইনিভাবে এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পাবে এবং এর নিজস্ব আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা থাকবে।

প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রির শর্তানুযায়ী, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দামেস্কসহ সিরিয়ার অন্যান্য প্রদেশেও বিভিন্ন নতুন কলেজ, ইনস্টিটিউট এবং গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত হচ্ছে যেসব প্রতিষ্ঠান

এই বিশাল সামরিক শিক্ষা কাঠামোর অধীনে দেশের শীর্ষস্থানীয় সামরিক অ্যাকাডেমি ও কলেজগুলোকে একীভূত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • উচ্চতর সামরিক অ্যাকাডেমি: যার অধীনে থাকবে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, হায়ার ওয়ার কলেজ এবং কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ।
  • বিশেষায়িত সামরিক কলেজ: বিমান বাহিনী কলেজ (Air Force College), নৌবাহিনী কলেজ (Naval War College), স্থলবাহিনী কলেজ (Military Academy for Infantry/Land Forces)।
  • মানবিক ও প্রযুক্তিগত অনুষদ: মানবিক ও প্রশাসনিক বিজ্ঞান কলেজ, উচ্চতর ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট এবং বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তিগত ইনস্টিটিউট।

তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কবে নাগাদ আনুষ্ঠানিক পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে কিংবা এতে ভর্তির প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা কী হবে, সে বিষয়ে ডিক্রিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি

এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটি হুট করে আসেনি, বরং বেশ কিছুদিন ধরেই এর প্রস্তুতি চলছিল। গত ২৪ জুন সিরিয়ার উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা মন্ত্রী মারওয়ান আল-হালাবি দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। মেজর জেনারেল সেলিম ইদ্রিসের নেতৃত্বে আসা ওই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে সামরিক প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন এবং সামরিক শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় মন্ত্রী আল-হালাবি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, সামরিক শিক্ষাকে আধুনিক মানদণ্ডে রূপান্তর করতে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর সিরিয়ার বিপ্লবী জনতা ও সশস্ত্র দলগুলো দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা বাশার আল-আসাদের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজধানী দামেস্কে প্রবেশ করে। হাফেজ আল-আসাদ (১৯৭১-২০০০) ও তার ছেলে বাশার আল-আসাদের (২০০০-২০২৪) দীর্ঘ জুলুম ও দমনপীড়নমূলক ব্যবস্থার পতনের পর গঠিত নতুন সরকার এখন সিরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সমস্ত সামরিক উপদল ও ইউনিটকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একক কমান্ডের অধীনে এনে একটি পেশাদার, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক জাতীয় সেনাবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

বিষয় : সিরিয়া

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


দামেস্কে ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ প্রেসিডেন্ট আল-শরা’র

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

সিরিয়ার সামরিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজধানী দামেস্কে একটি বিশেষায়িত সামরিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শরা। গত রবিবার (৫ জুলাই) তিনি এই সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক ডিক্রি বা প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি জারি করেন। ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়’ নামের এই উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সিরিয়ার নতুন সামরিক ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আসাদ স্বৈরশাসনের পতনের পর নতুন সিরিয়া বিনির্মাণ ও সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নে বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শরা। রবিবার (৫ জুলাই) তিনি দেশে সামরিক বিজ্ঞানে বিশেষায়িত একটি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি জারি করেছেন। নতুন এই প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে "জাতীয় প্রতিরক্ষা বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়"।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'সানা' (SANA) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আল-শরা ২০২৬ সালের ১৪৭ নম্বর ডিক্রি জারি করেছেন, যার অধীনে এই বিশেষায়িত সামরিক বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে উঠবে। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান কার্যালয় ও ক্যাম্পাস থাকবে রাজধানী দামেস্কে। আইনিভাবে এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পাবে এবং এর নিজস্ব আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা থাকবে।

প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রির শর্তানুযায়ী, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দামেস্কসহ সিরিয়ার অন্যান্য প্রদেশেও বিভিন্ন নতুন কলেজ, ইনস্টিটিউট এবং গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত হচ্ছে যেসব প্রতিষ্ঠান

এই বিশাল সামরিক শিক্ষা কাঠামোর অধীনে দেশের শীর্ষস্থানীয় সামরিক অ্যাকাডেমি ও কলেজগুলোকে একীভূত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • উচ্চতর সামরিক অ্যাকাডেমি: যার অধীনে থাকবে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, হায়ার ওয়ার কলেজ এবং কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ।
  • বিশেষায়িত সামরিক কলেজ: বিমান বাহিনী কলেজ (Air Force College), নৌবাহিনী কলেজ (Naval War College), স্থলবাহিনী কলেজ (Military Academy for Infantry/Land Forces)।
  • মানবিক ও প্রযুক্তিগত অনুষদ: মানবিক ও প্রশাসনিক বিজ্ঞান কলেজ, উচ্চতর ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট এবং বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তিগত ইনস্টিটিউট।

তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কবে নাগাদ আনুষ্ঠানিক পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে কিংবা এতে ভর্তির প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা কী হবে, সে বিষয়ে ডিক্রিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি

এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াটি হুট করে আসেনি, বরং বেশ কিছুদিন ধরেই এর প্রস্তুতি চলছিল। গত ২৪ জুন সিরিয়ার উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা মন্ত্রী মারওয়ান আল-হালাবি দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। মেজর জেনারেল সেলিম ইদ্রিসের নেতৃত্বে আসা ওই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে সামরিক প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন এবং সামরিক শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় মন্ত্রী আল-হালাবি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, সামরিক শিক্ষাকে আধুনিক মানদণ্ডে রূপান্তর করতে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর সিরিয়ার বিপ্লবী জনতা ও সশস্ত্র দলগুলো দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা বাশার আল-আসাদের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজধানী দামেস্কে প্রবেশ করে। হাফেজ আল-আসাদ (১৯৭১-২০০০) ও তার ছেলে বাশার আল-আসাদের (২০০০-২০২৪) দীর্ঘ জুলুম ও দমনপীড়নমূলক ব্যবস্থার পতনের পর গঠিত নতুন সরকার এখন সিরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সমস্ত সামরিক উপদল ও ইউনিটকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একক কমান্ডের অধীনে এনে একটি পেশাদার, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক জাতীয় সেনাবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ