বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

পুলিশ লাইন্সে উচ্চশব্দে গান-বাজনা বন্ধের প্রতিবাদ জানাতে গেলে মাদ্রাসাছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জ; ৩০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার, নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস



ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার, নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইন্সে উচ্চস্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে তা বন্ধের দাবি জানানোকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসাছাত্র ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের লাঠিচার্জ ও ছাত্রদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। এ ঘটনার জের ধরে দায়িত্বে বিচ্যুতির অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইন্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মাদ্রাসাছাত্র ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ লাইন্স প্রাঙ্গণে উচ্চস্বরে গান-বাজনা চলছিল। গভীর রাতে শব্দের তীব্রতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। গান-বাজনা বন্ধের সুনির্দিষ্ট ও মানবিক দাবিতে স্থানীয় বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন্সের মূল গেটে গিয়ে বিনীতভাবে অনুরোধ জানান। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সাথে তাদের বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়, যা একপর্যায়ে মারাত্মক উত্তেজনায় রূপ নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ শুরু করে। লাঠিচার্জের মুখে শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলে তীব্র সংঘর্ষ বেধে যায় এবং শিক্ষার্থীরা পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এই সহিংসতায় পুলিশ সদস্য ও মাদ্রাসাছাত্রসহ প্রায় ৩০ জন আহত হন। তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে পরবর্তীতে পুলিশ লাইন্সের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি স্থগিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

ঘটনা পরদিন বুধবার (১৯ আগস্ট) জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গেট ও কম্পাউন্ড ডিউটিতে দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় দায়িত্ব পালনে বিচ্যুতির দায়ে তিন পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

একই সাথে, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে সার্বিক বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আরও নিশ্চিত করা হয় যে, তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে যেকোনো দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা রক্ষায় জেলা পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে সাধারণ মানুষকে অনুমাননির্ভর বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মাদ্রাসার মুহতামিম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। শিক্ষার্থীদের বিনীত অনুরোধ ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির পরও উচ্চস্বরে গান-বাজনা চালিয়ে যাওয়া ঠিক হয়নি। মানুষকে কষ্ট দিয়ে গান শোনার বা বাজানোর অনুমতি ইসলাম কিংবা দেশের প্রচলিত কোনো আইন বা সরকার কাউকে দেয় না।"

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ ঘটনাটিকে ‘অনভিপ্রেত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, "যদি কোনো সদস্য অতি উৎসাহী হয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে থাকে, তবে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্স ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

বিষয় : ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সংঘর্ষ সাংস্কৃতিক

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার, নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইন্সে উচ্চস্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে তা বন্ধের দাবি জানানোকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসাছাত্র ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের লাঠিচার্জ ও ছাত্রদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। এ ঘটনার জের ধরে দায়িত্বে বিচ্যুতির অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইন্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মাদ্রাসাছাত্র ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ লাইন্স প্রাঙ্গণে উচ্চস্বরে গান-বাজনা চলছিল। গভীর রাতে শব্দের তীব্রতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। গান-বাজনা বন্ধের সুনির্দিষ্ট ও মানবিক দাবিতে স্থানীয় বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন্সের মূল গেটে গিয়ে বিনীতভাবে অনুরোধ জানান। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সাথে তাদের বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়, যা একপর্যায়ে মারাত্মক উত্তেজনায় রূপ নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ শুরু করে। লাঠিচার্জের মুখে শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলে তীব্র সংঘর্ষ বেধে যায় এবং শিক্ষার্থীরা পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এই সহিংসতায় পুলিশ সদস্য ও মাদ্রাসাছাত্রসহ প্রায় ৩০ জন আহত হন। তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে পরবর্তীতে পুলিশ লাইন্সের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি স্থগিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

ঘটনা পরদিন বুধবার (১৯ আগস্ট) জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গেট ও কম্পাউন্ড ডিউটিতে দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় দায়িত্ব পালনে বিচ্যুতির দায়ে তিন পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

একই সাথে, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে সার্বিক বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আরও নিশ্চিত করা হয় যে, তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে যেকোনো দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা রক্ষায় জেলা পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে সাধারণ মানুষকে অনুমাননির্ভর বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মাদ্রাসার মুহতামিম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। শিক্ষার্থীদের বিনীত অনুরোধ ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির পরও উচ্চস্বরে গান-বাজনা চালিয়ে যাওয়া ঠিক হয়নি। মানুষকে কষ্ট দিয়ে গান শোনার বা বাজানোর অনুমতি ইসলাম কিংবা দেশের প্রচলিত কোনো আইন বা সরকার কাউকে দেয় না।"

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ ঘটনাটিকে ‘অনভিপ্রেত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, "যদি কোনো সদস্য অতি উৎসাহী হয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে থাকে, তবে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্স ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ