বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে চরম নৃশংসতার ইঙ্গিত দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা ইকবাল হোসাইনকে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ছাত্র আন্দোলনের সময় ‘গুলি করি, মরে একটা, একটাই যায় স্যার’ বলা পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত



ছাত্র আন্দোলনের সময় ‘গুলি করি, মরে একটা, একটাই যায় স্যার’ বলা পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের সময় চরম মানবতাবিরোধী ও নৃশংস মন্তব্যের কারণে আলোচিত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে সরকারি চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণআন্দোলন দমনের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সামনে ইকবাল হোসাইনের একটি ৪৩ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। ভিডিওতে তাকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর বিবরণ দিয়ে বলতে শোনা যায়— “গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না। এইটা হলো স্যার সবচেয়ে বড় আতঙ্কের এবং দুশ্চিন্তার বিষয়।”

তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ধারণকৃত ওই ভিডিওতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও সাবেক সচিব জাহাঙ্গীর আলমকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের এই অমানবিক মনোভাব ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নজির দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচিত হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট ইকবাল হোসাইনকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছিল। তিনি ২৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করলেও এর পর থেকে কর্মস্থলে টানা অনুপস্থিত থাকেন। বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

আইনানুযায়ী, দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অননুমোদিত অনুপস্থিতি ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে দুটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬


ছাত্র আন্দোলনের সময় ‘গুলি করি, মরে একটা, একটাই যায় স্যার’ বলা পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের সময় চরম মানবতাবিরোধী ও নৃশংস মন্তব্যের কারণে আলোচিত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে সরকারি চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণআন্দোলন দমনের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সামনে ইকবাল হোসাইনের একটি ৪৩ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। ভিডিওতে তাকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর বিবরণ দিয়ে বলতে শোনা যায়— “গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না। এইটা হলো স্যার সবচেয়ে বড় আতঙ্কের এবং দুশ্চিন্তার বিষয়।”

তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ধারণকৃত ওই ভিডিওতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও সাবেক সচিব জাহাঙ্গীর আলমকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের এই অমানবিক মনোভাব ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নজির দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচিত হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট ইকবাল হোসাইনকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছিল। তিনি ২৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণ করলেও এর পর থেকে কর্মস্থলে টানা অনুপস্থিত থাকেন। বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

আইনানুযায়ী, দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অননুমোদিত অনুপস্থিতি ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও তদন্ত পরিচালনা করে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে দুটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ