বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আগ্রাসনে যেকোনো ধরনের সহায়তা যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে সতর্ক করেছে তেহরান; পাল্টা পদক্ষেপে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে আবু ধাবি।

মার্কিন বাহিনীকে সহায়তার বিরুদ্ধে আরব দেশগুলোকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি



মার্কিন বাহিনীকে সহায়তার বিরুদ্ধে আরব দেশগুলোকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি

আমেরিকান আগ্রাসী বাহিনীকে ঘাঁটি, সুবিধা বা জ্বালানি সরবরাহ করার বিষয়ে উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মার্কিন বাহিনীকে প্রদত্ত যেকোনো সুযোগ-সুবিধা তাদের সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণের শামিল হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরানের সাথে সকল ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

আমেরিকাকে সহায়তার কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে: তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের আরব রাষ্ট্রগুলোকে মার্কিন বাহিনীকে সামরিক সহায়তা না দেওয়ার জন্য সতর্ক করেছে ইরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ আলী আবদুল্লাহি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আগ্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ঘাঁটি বা যেকোনো ধরনের সুবিধা প্রদান করা মানে সরাসরি তাদের সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোতে মার্কিন বাহিনীর বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের উপস্থিতি স্বাগতিক দেশগুলোর অজানা থাকা একেবারেই অসম্ভব। উপসাগরীয় সরকারগুলো যদি মনে করে যে তাদের মার্কিন তোষণ ও আঞ্চলিক ভূমিকা ইরানের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে, তবে তারা ভুল করছে; ইরান পরিস্থিতি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন।

অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করল ইউএই ইরানের সতর্কবার্তার পরই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আবু ধাবি তেহরানের সাথে তাদের সমস্ত বাণিজ্য, অর্থনৈতিক ও আর্থিক লেনদেন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। ইউএই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আফরা আল-হামেলি জানান, আঞ্চলিক উত্তেজনার চরম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে, যুদ্ধ শুরুর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক বিশাল ইরানি জনগোষ্ঠী বাস করত এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশটি ছিল তেহরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আবু ধাবি তাদের অবস্থান বদলাতে শুরু করে—রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার এবং ইরান-সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু সংস্থাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

হরমুজ প্রণালী ও মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের গুঞ্জন এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বড় ঘাঁটিগুলো এবং সেনা উপস্থিতি বজায় রাখা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করেছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পেন্টাগন এখন তাদের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক ঘাঁটিগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়ন করছে এবং দীর্ঘদিনের মার্কিন ঘাঁটি ব্যবস্থা পুনর্নির্মাণের চিন্তা বাদ দিচ্ছে।

অপরদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীকে "নতুন মার্কিন ভূখণ্ড" বলে দাবি করার পর, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই সেটিকে কঠোর উপহাস করে মার্কিন বাহিনীকে "পারস্য উপসাগরে আমেরিকা-পরবর্তী ব্যবস্থায় স্বাগতম" জানিয়েছেন। ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এই প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

বিষয় : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান হুঁশিয়ারি

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬


মার্কিন বাহিনীকে সহায়তার বিরুদ্ধে আরব দেশগুলোকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

আমেরিকান আগ্রাসী বাহিনীকে ঘাঁটি, সুবিধা বা জ্বালানি সরবরাহ করার বিষয়ে উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মার্কিন বাহিনীকে প্রদত্ত যেকোনো সুযোগ-সুবিধা তাদের সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণের শামিল হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরানের সাথে সকল ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

আমেরিকাকে সহায়তার কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে: তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের আরব রাষ্ট্রগুলোকে মার্কিন বাহিনীকে সামরিক সহায়তা না দেওয়ার জন্য সতর্ক করেছে ইরান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ আলী আবদুল্লাহি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আগ্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ঘাঁটি বা যেকোনো ধরনের সুবিধা প্রদান করা মানে সরাসরি তাদের সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোতে মার্কিন বাহিনীর বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের উপস্থিতি স্বাগতিক দেশগুলোর অজানা থাকা একেবারেই অসম্ভব। উপসাগরীয় সরকারগুলো যদি মনে করে যে তাদের মার্কিন তোষণ ও আঞ্চলিক ভূমিকা ইরানের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে, তবে তারা ভুল করছে; ইরান পরিস্থিতি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন।

অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করল ইউএই ইরানের সতর্কবার্তার পরই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আবু ধাবি তেহরানের সাথে তাদের সমস্ত বাণিজ্য, অর্থনৈতিক ও আর্থিক লেনদেন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। ইউএই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আফরা আল-হামেলি জানান, আঞ্চলিক উত্তেজনার চরম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে, যুদ্ধ শুরুর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক বিশাল ইরানি জনগোষ্ঠী বাস করত এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশটি ছিল তেহরানের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আবু ধাবি তাদের অবস্থান বদলাতে শুরু করে—রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার এবং ইরান-সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু সংস্থাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

হরমুজ প্রণালী ও মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের গুঞ্জন এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বড় ঘাঁটিগুলো এবং সেনা উপস্থিতি বজায় রাখা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করেছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পেন্টাগন এখন তাদের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক ঘাঁটিগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়ন করছে এবং দীর্ঘদিনের মার্কিন ঘাঁটি ব্যবস্থা পুনর্নির্মাণের চিন্তা বাদ দিচ্ছে।

অপরদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীকে "নতুন মার্কিন ভূখণ্ড" বলে দাবি করার পর, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই সেটিকে কঠোর উপহাস করে মার্কিন বাহিনীকে "পারস্য উপসাগরে আমেরিকা-পরবর্তী ব্যবস্থায় স্বাগতম" জানিয়েছেন। ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এই প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ