বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণ হেবরনে গভীর রাতে ফিলিস্তিনি পরিবারে সশস্ত্র হামলা; নাবলুসের কুসরা গ্রামে অব্যাহত অবরোধে প্রকট হচ্ছে খাদ্য ও ওষুধের সংকট।

ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের পুড়িয়ে মারার চেষ্টা: দক্ষিণ হেবরনে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ভয়াবহ অগ্নিসংযোগ



ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের পুড়িয়ে মারার চেষ্টা: দক্ষিণ হেবরনে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ভয়াবহ অগ্নিসংযোগ

অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণ হেবরনে এক ফিলিস্তিনি পরিবারকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার উদ্দেশ্যে গভীর রাতে বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে সশস্ত্র ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার তথ্যমতে, গত ভোররাতে পরিবারের সদস্যরা যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, ঠিক তখনই মুখোশধারী একদল সন্ত্রাসী ঘরের জানালা ভেঙে দাহ্য পদার্থ ছুড়ে মারে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাসমূহের চরম উদাসীনতার সুযোগে ফিলিস্তিনিদের ওপর অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের অব্যাহত বর্বরতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নতুন করে চরম রূপ ধারণ করেছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন এলাকার দক্ষিণ অঞ্চলের বাসিন্দা মোহাম্মদ আল-নাওয়াজা জানান, ভোররাতে পাঁচজন সশস্ত্র ও মুখোশধারী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী হঠাৎ তাদের বাড়ি ঘেরাও করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই একজন সন্ত্রাসী জানালার কাচ ভেঙে কক্ষের ভেতর সরাসরি অগ্নিসংযোগকারী দাহ্য পদার্থ ছুড়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরের ভেতরে থাকা ঘুমন্ত বাসিন্দারা মারাত্মক প্রাণসঙ্কটে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শী ও ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমের দাবি, পার্শ্ববর্তী অবৈধ ইসরাইলি বসতি ‘ওতনিয়েল’ থেকে আসা কট্টরপন্থী বসতি স্থাপনকারীরাই সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে, পশ্চিম তীরের দক্ষিণ নাবলুসের কুসরা গ্রামে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান ইসরাইলি নিপীড়ন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গ্রামটিতে ফিলিস্তিনিদের একাধিক বাড়ি ঘিরে ইসরাইলি দখলদার বসতি স্থাপনকারীদের আরোপিত কঠোর অবরোধ আজ ১২তম দিনে পদার্পণ করেছে। স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তাহীনতায় রেখে বর্ণবাদী ইসরাইলি সেনাবাহিনী উল্টো আক্রমণকারী বসতি স্থাপনকারীদের সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে।

কুসরা গ্রাম পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল আজিম ওয়াদি জানিয়েছেন, এখনো অন্তত তিনটি বসতবাড়ি পূর্ণাঙ্গ অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই সামরিক ও চরমপন্থী অবরোধের কারণে ওই বাড়িগুলোর বাসিন্দারা বাইরে বের হতে পারছেন না, এমনকি বাইরে থেকেও কেউ জরুরি সাহায্য নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না। আরও মারাত্মক তথ্য হলো, ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে তাড়িয়ে একটি বসতবাড়িকে অলিখিত সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে দখলদার সামরিক বাহিনী।

দীর্ঘ সময় ধরে বন্দি অবস্থায় থাকায় অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর মাঝে চরম খাদ্য ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ফিলিস্তিনের ওয়াফা বার্তা সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, অব্যাহত আন্তর্জাতিক নীরবতার সুযোগে দখলদার ও উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের যৌথ সাঁড়াশি অভিযানে পুরো অঞ্চলের মানবিক পরিস্থিতি এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে।

বিষয় : ইসরাইল ফিলিস্তিনি অগ্নিসংযোগ

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের পুড়িয়ে মারার চেষ্টা: দক্ষিণ হেবরনে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ভয়াবহ অগ্নিসংযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণ হেবরনে এক ফিলিস্তিনি পরিবারকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার উদ্দেশ্যে গভীর রাতে বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে সশস্ত্র ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার তথ্যমতে, গত ভোররাতে পরিবারের সদস্যরা যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, ঠিক তখনই মুখোশধারী একদল সন্ত্রাসী ঘরের জানালা ভেঙে দাহ্য পদার্থ ছুড়ে মারে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাসমূহের চরম উদাসীনতার সুযোগে ফিলিস্তিনিদের ওপর অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের অব্যাহত বর্বরতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নতুন করে চরম রূপ ধারণ করেছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন এলাকার দক্ষিণ অঞ্চলের বাসিন্দা মোহাম্মদ আল-নাওয়াজা জানান, ভোররাতে পাঁচজন সশস্ত্র ও মুখোশধারী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী হঠাৎ তাদের বাড়ি ঘেরাও করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই একজন সন্ত্রাসী জানালার কাচ ভেঙে কক্ষের ভেতর সরাসরি অগ্নিসংযোগকারী দাহ্য পদার্থ ছুড়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরের ভেতরে থাকা ঘুমন্ত বাসিন্দারা মারাত্মক প্রাণসঙ্কটে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শী ও ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমের দাবি, পার্শ্ববর্তী অবৈধ ইসরাইলি বসতি ‘ওতনিয়েল’ থেকে আসা কট্টরপন্থী বসতি স্থাপনকারীরাই সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে, পশ্চিম তীরের দক্ষিণ নাবলুসের কুসরা গ্রামে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান ইসরাইলি নিপীড়ন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গ্রামটিতে ফিলিস্তিনিদের একাধিক বাড়ি ঘিরে ইসরাইলি দখলদার বসতি স্থাপনকারীদের আরোপিত কঠোর অবরোধ আজ ১২তম দিনে পদার্পণ করেছে। স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তাহীনতায় রেখে বর্ণবাদী ইসরাইলি সেনাবাহিনী উল্টো আক্রমণকারী বসতি স্থাপনকারীদের সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে।

কুসরা গ্রাম পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল আজিম ওয়াদি জানিয়েছেন, এখনো অন্তত তিনটি বসতবাড়ি পূর্ণাঙ্গ অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই সামরিক ও চরমপন্থী অবরোধের কারণে ওই বাড়িগুলোর বাসিন্দারা বাইরে বের হতে পারছেন না, এমনকি বাইরে থেকেও কেউ জরুরি সাহায্য নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না। আরও মারাত্মক তথ্য হলো, ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে তাড়িয়ে একটি বসতবাড়িকে অলিখিত সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে দখলদার সামরিক বাহিনী।

দীর্ঘ সময় ধরে বন্দি অবস্থায় থাকায় অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর মাঝে চরম খাদ্য ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ফিলিস্তিনের ওয়াফা বার্তা সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, অব্যাহত আন্তর্জাতিক নীরবতার সুযোগে দখলদার ও উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের যৌথ সাঁড়াশি অভিযানে পুরো অঞ্চলের মানবিক পরিস্থিতি এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ