শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

চলন্ত স্কুটারে থাকা গর্ভবতী নারী ও শিশুদের অসম্মান করে ভিডিও প্রকাশ; দিল্লিতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিদ্বেষমূলক আচরণের নতুন নজির।

দিল্লিতে প্রকাশ্যে মুসলিম পরিবারকে হেনস্থা হিন্দুত্ববাদী যুবকের: ভিডিও ধারণ করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইনের দাবি



দিল্লিতে প্রকাশ্যে মুসলিম পরিবারকে হেনস্থা হিন্দুত্ববাদী যুবকের: ভিডিও ধারণ করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইনের দাবি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক মুসলিম পরিবারকে চলন্ত রাস্তায় অসংবেদনশীলভাবে অনুসরণ ও ভিডিও ধারণ করে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে এক চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী কর্মীর বিরুদ্ধে। গত ১৬ আগস্ট (রবিবার) রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির নাম স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ, যিনি নিজেকে ‘গো-রক্ষক’ গোষ্ঠীর সদস্য বলে পরিচয় দেন। ভিডিওতে ওই মুসলিম পরিবারের সদস্য সংখ্যা ও গর্ভবতী নারীকে ইঙ্গিত করে ভারতের ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের জন্য তাদের দায়ী করা হয়।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ব্যস্ত রাস্তায় এক মুসলিম পরিবারকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। প্রকাশিত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক মুসলিম দম্পতি তাদের তিন সন্তানকে নিয়ে স্কুটারে করে যাচ্ছিলেন। এ সময় স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ নামের এক চরমপন্থী উগ্র হিন্দুত্ববাদী কর্মী তাদের পিছু নেন এবং পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে থাকেন।

ভিডিও ধারণের পাশাপাশি ভরদ্বাজ আপত্তিকর ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের মাধ্যমে ঐ পরিবারকে উদ্দেশ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। তিনি দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "ইয়ে মুল্লাও কা ফ্যামিলি হ্যায়" (এরা 'মোল্লাদের' পরিবার)। স্কুটারে হেলমেট না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি গর্ভবতী নারীকে ইঙ্গিত করে অত্যন্ত অসংবেদনশীল ভাষায় বলেন যে, ভারতের মূল বেকারত্ব ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য এই মুসলিমদের পরিবারগুলোই দায়ী।

ভিডিওর শেষভাগে এই হিন্দুত্ববাদী কর্মী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে অবিলম্বে একটি 'জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিল' (Population Control Bill) পাসের আহ্বান জানান। একই সাথে ওই পরিবারের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দোহাই দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দিল্লি পুলিশকে ট্যাগ করতে নেটিজেনদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এটি স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের প্রথম বিদ্বেষমূলক আচরণ নয়। এর আগেও তিনি দিল্লিতে মুসলিমবিরোধী বিভিন্ন বক্তব্য এবং উসকানিমূলক ভিডিও ধারণের মাধ্যমে খবরের শিরোনাম হয়েছেন। সম্প্রতি নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময়েও তিনি যন্তর মন্তরে উপস্থিত হয়ে দিল্লি পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন— "আমাকে একদিনের জন্য পুলিশ অফিসার বানিয়ে দিন, আসল গুন্ডাগিরি কাকে বলে তা দেখিয়ে দেব।"

ভারতে গো-রক্ষক ও চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে এভাবে সাধারণ মুসলিম নাগরিকদের প্রকাশ্য রাস্তায় অপমান ও অনলাইনে হেনস্থা করার প্রবণতা তীব্র গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিষয় : মানবাধিকার ভারত সংখ্যালঘু

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


দিল্লিতে প্রকাশ্যে মুসলিম পরিবারকে হেনস্থা হিন্দুত্ববাদী যুবকের: ভিডিও ধারণ করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইনের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক মুসলিম পরিবারকে চলন্ত রাস্তায় অসংবেদনশীলভাবে অনুসরণ ও ভিডিও ধারণ করে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে এক চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী কর্মীর বিরুদ্ধে। গত ১৬ আগস্ট (রবিবার) রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির নাম স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ, যিনি নিজেকে ‘গো-রক্ষক’ গোষ্ঠীর সদস্য বলে পরিচয় দেন। ভিডিওতে ওই মুসলিম পরিবারের সদস্য সংখ্যা ও গর্ভবতী নারীকে ইঙ্গিত করে ভারতের ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের জন্য তাদের দায়ী করা হয়।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ব্যস্ত রাস্তায় এক মুসলিম পরিবারকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। প্রকাশিত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক মুসলিম দম্পতি তাদের তিন সন্তানকে নিয়ে স্কুটারে করে যাচ্ছিলেন। এ সময় স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ নামের এক চরমপন্থী উগ্র হিন্দুত্ববাদী কর্মী তাদের পিছু নেন এবং পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে থাকেন।

ভিডিও ধারণের পাশাপাশি ভরদ্বাজ আপত্তিকর ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের মাধ্যমে ঐ পরিবারকে উদ্দেশ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। তিনি দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "ইয়ে মুল্লাও কা ফ্যামিলি হ্যায়" (এরা 'মোল্লাদের' পরিবার)। স্কুটারে হেলমেট না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি গর্ভবতী নারীকে ইঙ্গিত করে অত্যন্ত অসংবেদনশীল ভাষায় বলেন যে, ভারতের মূল বেকারত্ব ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য এই মুসলিমদের পরিবারগুলোই দায়ী।

ভিডিওর শেষভাগে এই হিন্দুত্ববাদী কর্মী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে অবিলম্বে একটি 'জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিল' (Population Control Bill) পাসের আহ্বান জানান। একই সাথে ওই পরিবারের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দোহাই দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দিল্লি পুলিশকে ট্যাগ করতে নেটিজেনদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এটি স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের প্রথম বিদ্বেষমূলক আচরণ নয়। এর আগেও তিনি দিল্লিতে মুসলিমবিরোধী বিভিন্ন বক্তব্য এবং উসকানিমূলক ভিডিও ধারণের মাধ্যমে খবরের শিরোনাম হয়েছেন। সম্প্রতি নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময়েও তিনি যন্তর মন্তরে উপস্থিত হয়ে দিল্লি পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন— "আমাকে একদিনের জন্য পুলিশ অফিসার বানিয়ে দিন, আসল গুন্ডাগিরি কাকে বলে তা দেখিয়ে দেব।"

ভারতে গো-রক্ষক ও চরমপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে এভাবে সাধারণ মুসলিম নাগরিকদের প্রকাশ্য রাস্তায় অপমান ও অনলাইনে হেনস্থা করার প্রবণতা তীব্র গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ