সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ জোটের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত; নেতানিয়াহুর আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আহ্বান।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি: আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু



মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি: আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু

তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘যৌথ প্রতিরক্ষার জন্য মক্কা চুক্তি’-র কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, এই চুক্তির মধ্য দিয়ে অঞ্চলে নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতার একটি নতুন কাঠামো তৈরি হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই চুক্তি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করবে এবং অনিশ্চয়তা কমিয়ে আনবে। একই সাথে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতিমালার তীব্র সমালোচনা করে তাঁকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার শত্রু হিসেবে আখ্যা দেন।

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় মক্কা চুক্তির ঐতিহাসিক ভূমিকা

ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আঙ্কারায় আয়োজিত এই বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মক্কা চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘যৌথ প্রতিরক্ষার জন্য মক্কা চুক্তি’-র প্রথম কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠকটি আঞ্চলিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক।

ফিদান স্পষ্ট করেন যে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি কোনো সংকীর্ণ পরিমণ্ডলে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য তৈরি করা হয়নি, বরং এর সম্প্রসারণের পথ খোলা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে যৌথ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী অন্যান্য মুসলিম ও মিত্র দেশগুলোও এই কাঠামোর সাথে যুক্ত হতে পারবে। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, "মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের বদৌলতে আমরা এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতার ক্রমবর্ধমান সুসংহতকরণ এবং অনিশ্চয়তার হ্রাস প্রত্যক্ষ করব।"

নেতানিয়াহুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর সরকারের গণহত্যামূলক নীতিমালার বিরুদ্ধে কঠোর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ফিলিস্তিনসহ সমগ্র অঞ্চলে নেতানিয়াহুর ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে ফিদান বলেন, "গণহত্যার হোতা নেতানিয়াহু, যিনি মানবতা, সমাজ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সাধারণ শত্রুতে পরিণত হয়েছেন, তিনি কোনোভাবেই একজন বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি নন।"

তিনি বিশ্ব সম্প্রদায় এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে একক কোনো ব্যক্তির আগ্রাসনে বন্দি না থেকে, "নেতানিয়াহুর সৃষ্ট সংঘাত ও নিরাপত্তা হুমকি" সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করার জন্য জোর আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষা এবং মুসলিম উম্মাহর সার্বিক নিরাপত্তায় এই জোট ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

বিষয় : পাকিস্তান তুরস্ক সৌদি আরব মক্কা চুক্তি

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি: আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘যৌথ প্রতিরক্ষার জন্য মক্কা চুক্তি’-র কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, এই চুক্তির মধ্য দিয়ে অঞ্চলে নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতার একটি নতুন কাঠামো তৈরি হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই চুক্তি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করবে এবং অনিশ্চয়তা কমিয়ে আনবে। একই সাথে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতিমালার তীব্র সমালোচনা করে তাঁকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার শত্রু হিসেবে আখ্যা দেন।

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় মক্কা চুক্তির ঐতিহাসিক ভূমিকা

ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আঙ্কারায় আয়োজিত এই বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মক্কা চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘যৌথ প্রতিরক্ষার জন্য মক্কা চুক্তি’-র প্রথম কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠকটি আঞ্চলিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক।

ফিদান স্পষ্ট করেন যে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি কোনো সংকীর্ণ পরিমণ্ডলে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য তৈরি করা হয়নি, বরং এর সম্প্রসারণের পথ খোলা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে যৌথ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী অন্যান্য মুসলিম ও মিত্র দেশগুলোও এই কাঠামোর সাথে যুক্ত হতে পারবে। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, "মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের বদৌলতে আমরা এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতার ক্রমবর্ধমান সুসংহতকরণ এবং অনিশ্চয়তার হ্রাস প্রত্যক্ষ করব।"

নেতানিয়াহুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর সরকারের গণহত্যামূলক নীতিমালার বিরুদ্ধে কঠোর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ফিলিস্তিনসহ সমগ্র অঞ্চলে নেতানিয়াহুর ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে ফিদান বলেন, "গণহত্যার হোতা নেতানিয়াহু, যিনি মানবতা, সমাজ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সাধারণ শত্রুতে পরিণত হয়েছেন, তিনি কোনোভাবেই একজন বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি নন।"

তিনি বিশ্ব সম্প্রদায় এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে একক কোনো ব্যক্তির আগ্রাসনে বন্দি না থেকে, "নেতানিয়াহুর সৃষ্ট সংঘাত ও নিরাপত্তা হুমকি" সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করার জন্য জোর আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষা এবং মুসলিম উম্মাহর সার্বিক নিরাপত্তায় এই জোট ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ